০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

কেয়ামতের দিন আল্লাহ যাদের বিরুদ্ধে বাদী হবেন: নবীজির (সা.) ৩ ব্যক্তির সতর্কবার্তা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫১০

মানবজীবন মাত্রই ক্ষণস্থায়ী, আর মৃত্যু হলো এক অনিবার্য সত্য—ধনী, গরিব, রাজা, প্রজা—সবার জন্যই যা সুনিশ্চিত গন্তব্য। ইসলামি বিশ্বাস অনুসারে, এই পৃথিবী একটি সাময়িক পরীক্ষার হল, যেখানে আমলের মাধ্যমে পরকালের জন্য সফলতা অর্জন করতে হয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
* “জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।” (সুরা কাহাফ: ৭)
* “যারা ইমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তাদের সুসংবাদ দাও, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে।” (সুরা বাকারা: ২৫)
* মৃত্যুর অনিবার্যতা প্রসঙ্গে আল্লাহ আরও বলেন: “অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহূর্তও বিলম্বিত কিংবা ত্বরান্বিত করতে পারবে না।” (সুরা নহল: ৬১)

হাদিসে এসেছে, মৃত্যুর পর প্রত্যেক ব্যক্তির সামনে তার চিরস্থায়ী আবাসস্থল তুলে ধরা হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন: “মারা যাওয়ার পর মৃত ব্যক্তির সামনে তার মূল বাসস্থানকে তুলে ধরা হবে। সে যদি জান্নাতি হয়, তবে জান্নাতের বাসস্থান আর যদি সে জাহান্নামী হয়, তবে জাহান্নামের বাসস্থান। পরে বলা হবে, এই তোমার স্থান। অবশেষে আল্লাহ তাআলা তোমাকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করবেন।” (তিরমিজি: ১০৭২)
কেয়ামতের সেই কঠিন পরিস্থিতি কেমন হবে, সে সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে ভয়াবহ বর্ণনা এসেছে:
* আল্লাহ বলেন: “সেদিন মানুষ নিজের ভাই, নিজের মা, নিজের পিতা, নিজের স্ত্রী ও সন্তানাদি থেকে পালাবে। তাদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর সেদিন এমন সময় এসে পড়বে, সে নিজেকে ছাড়া আর কারও প্রতি লক্ষ করার মতো অবস্থা থাকবে না।” (সুরা আবাসা: ৩৪-৩৭)
* হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি যখন নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞেস করেন যে কিয়ামতের দিন নারী-পুরুষ সবাই উলঙ্গ থাকবে, তখন হুজুর (সা.) উত্তরে বলেন: “হে আয়েশা, সেদিনের পরিস্থিতি এত ভয়ংকর হবে, কেউ কারও দিকে তাকানোর কথা কল্পনাও করতে পারবে না।” (মু
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে নবীজি (সা.) উম্মতদের নানা আমল করতে উৎসাহিত করেছেন। তবে বিশেষ একটি হাদিসে এমন তিন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে কেয়ামতের দিন স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজে বাদী হবেন।
রাসুল (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, কেয়ামতের দিবসে আমি নিজে ৩ ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হব—
১. যে আমার নামে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে।
২. যে কোনো আজাদ (মুক্ত) মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করে।
৩. যে কোনো মজুর (শ্রমিক) নিয়োগ করে তার থেকে পুরো কাজ আদায় করল এবং তার পারিশ্রমিক দিল না। (বুখারি: ২২৭০)
এই হাদিসটি উম্মতকে ওয়াদা রক্ষা করা, মানুষের স্বাধীনতা হরণ না করা এবং শ্রমিকের অধিকার যথাযথভাবে আদায়ের বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কেয়ামতের দিন আল্লাহ যাদের বিরুদ্ধে বাদী হবেন: নবীজির (সা.) ৩ ব্যক্তির সতর্কবার্তা

আপডেট: ০৩:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

মানবজীবন মাত্রই ক্ষণস্থায়ী, আর মৃত্যু হলো এক অনিবার্য সত্য—ধনী, গরিব, রাজা, প্রজা—সবার জন্যই যা সুনিশ্চিত গন্তব্য। ইসলামি বিশ্বাস অনুসারে, এই পৃথিবী একটি সাময়িক পরীক্ষার হল, যেখানে আমলের মাধ্যমে পরকালের জন্য সফলতা অর্জন করতে হয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
* “জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।” (সুরা কাহাফ: ৭)
* “যারা ইমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তাদের সুসংবাদ দাও, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে।” (সুরা বাকারা: ২৫)
* মৃত্যুর অনিবার্যতা প্রসঙ্গে আল্লাহ আরও বলেন: “অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহূর্তও বিলম্বিত কিংবা ত্বরান্বিত করতে পারবে না।” (সুরা নহল: ৬১)

হাদিসে এসেছে, মৃত্যুর পর প্রত্যেক ব্যক্তির সামনে তার চিরস্থায়ী আবাসস্থল তুলে ধরা হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন: “মারা যাওয়ার পর মৃত ব্যক্তির সামনে তার মূল বাসস্থানকে তুলে ধরা হবে। সে যদি জান্নাতি হয়, তবে জান্নাতের বাসস্থান আর যদি সে জাহান্নামী হয়, তবে জাহান্নামের বাসস্থান। পরে বলা হবে, এই তোমার স্থান। অবশেষে আল্লাহ তাআলা তোমাকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করবেন।” (তিরমিজি: ১০৭২)
কেয়ামতের সেই কঠিন পরিস্থিতি কেমন হবে, সে সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে ভয়াবহ বর্ণনা এসেছে:
* আল্লাহ বলেন: “সেদিন মানুষ নিজের ভাই, নিজের মা, নিজের পিতা, নিজের স্ত্রী ও সন্তানাদি থেকে পালাবে। তাদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর সেদিন এমন সময় এসে পড়বে, সে নিজেকে ছাড়া আর কারও প্রতি লক্ষ করার মতো অবস্থা থাকবে না।” (সুরা আবাসা: ৩৪-৩৭)
* হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি যখন নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞেস করেন যে কিয়ামতের দিন নারী-পুরুষ সবাই উলঙ্গ থাকবে, তখন হুজুর (সা.) উত্তরে বলেন: “হে আয়েশা, সেদিনের পরিস্থিতি এত ভয়ংকর হবে, কেউ কারও দিকে তাকানোর কথা কল্পনাও করতে পারবে না।” (মু
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে নবীজি (সা.) উম্মতদের নানা আমল করতে উৎসাহিত করেছেন। তবে বিশেষ একটি হাদিসে এমন তিন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে কেয়ামতের দিন স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজে বাদী হবেন।
রাসুল (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, কেয়ামতের দিবসে আমি নিজে ৩ ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হব—
১. যে আমার নামে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে।
২. যে কোনো আজাদ (মুক্ত) মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করে।
৩. যে কোনো মজুর (শ্রমিক) নিয়োগ করে তার থেকে পুরো কাজ আদায় করল এবং তার পারিশ্রমিক দিল না। (বুখারি: ২২৭০)
এই হাদিসটি উম্মতকে ওয়াদা রক্ষা করা, মানুষের স্বাধীনতা হরণ না করা এবং শ্রমিকের অধিকার যথাযথভাবে আদায়ের বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করে।