যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানিপত্রে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আনা ভারতীয় রুই মাছের একটি বড় চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০টার দিকে বন্দরের ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড থেকে এই চালানটি জব্দ করা হয়। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে জব্দকৃত মাছগুলো প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সাজ্জাত এন্টারপ্রাইজ’ কম মূল্যের সামুদ্রিক মাছ আমদানির ঘোষণা দিয়ে মূলত উচ্চমূল্যের রুই মাছ নিয়ে আসে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে একটি ভারতীয় ট্রাক থেকে ১০টি প্যাকেজে মোট ৬০০ কেজি রুই মাছ উদ্ধার করেন। আমদানিপত্রে ভিন্ন প্রজাতির মাছের নাম উল্লেখ করে সরকারের বড় অংকের রাজস্ব ফাঁকির এই অপচেষ্টা করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন।
এই চালানের খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘আলেয়া এন্টারপ্রাইজ’। উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারিও এই একই এজেন্টের মাধ্যমে মিথ্যা ঘোষণায় আনা প্রায় ৬ হাজার কেজি ইলিশ মাছের একটি চালান আটক করা হয়েছিল।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে শুল্ক ফাঁকি ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই অনিয়মের সাথে আলেয়া এন্টারপ্রাইজ, রয়েল এন্টারপ্রাইজ ও লিংক ইন্টারন্যাশনালসহ কয়েকটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের নাম বারবার উঠে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব সিন্ডিকেট বন্দরে সক্রিয় রয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, কাস্টমস হাউসের নিলামকারী মোস্তাফিজুর রহমান বাবু জানিয়েছেন, জব্দকৃত মাছগুলো আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় নিলামের মাধ্যমে ৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।


















