০২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ঢাকা পলিটেকনিকে ছাত্রদল-শিবির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আহত ১৬,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:২৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • ৫১১

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ ছাত্রাবাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (০২ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে ৪ জন গুরুতর আহতসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্রাবাসের ৫-৭টি কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মধ্যরাতে লতিফ ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র ও রামদা নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন ছুরিকাঘাতের শিকার হন। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় তাদের কক্ষ থেকে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চুরি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রথমে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে এলেও নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে উপ-পুলিশ কমিশনারসহ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হলে রাত আড়াইটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই হামলার জন্য শিবিরকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “শিবিরের সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হলের রুমে ঢুকে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। আমাদের একজন সহযোদ্ধাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে, এখন থেকে ছাত্রদলের রক্ত ঝরালে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই ‘সন্ত্রাসীদের’ প্রতিহত করা হবে।

অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ‘ছাত্রলীগীয় কায়দায়’ হামলার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি ফেসবুকে লেখেন, “রাতের অন্ধকারে ছাত্রাবাসে ঢুকে শিবিরকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল। প্রশাসন বরাবরের মতোই চাটুকার ভূমিকায় লিপ্ত।”
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, দলীয় ক্যাডার বাহিনীকে সামলানো না হলে এবং ক্যাম্পাসে সহাবস্থান বিঘ্নিত করা হলে সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষগুলো পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেনি।

সর্বাধিক পঠিত

রাজধানীজুড়ে নিজের ব্যানার-বিলবোর্ড সরানোর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা পলিটেকনিকে ছাত্রদল-শিবির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আহত ১৬,

আপডেট: ১২:২৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ ছাত্রাবাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (০২ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে ৪ জন গুরুতর আহতসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্রাবাসের ৫-৭টি কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মধ্যরাতে লতিফ ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র ও রামদা নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন ছুরিকাঘাতের শিকার হন। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় তাদের কক্ষ থেকে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চুরি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রথমে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে এলেও নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে উপ-পুলিশ কমিশনারসহ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হলে রাত আড়াইটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই হামলার জন্য শিবিরকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “শিবিরের সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হলের রুমে ঢুকে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। আমাদের একজন সহযোদ্ধাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে, এখন থেকে ছাত্রদলের রক্ত ঝরালে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই ‘সন্ত্রাসীদের’ প্রতিহত করা হবে।

অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ‘ছাত্রলীগীয় কায়দায়’ হামলার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি ফেসবুকে লেখেন, “রাতের অন্ধকারে ছাত্রাবাসে ঢুকে শিবিরকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল। প্রশাসন বরাবরের মতোই চাটুকার ভূমিকায় লিপ্ত।”
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, দলীয় ক্যাডার বাহিনীকে সামলানো না হলে এবং ক্যাম্পাসে সহাবস্থান বিঘ্নিত করা হলে সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষগুলো পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেনি।