মুন্সীগঞ্জের পূর্ব রাখি গ্রামের আলোচিত শ্যামল বেপারী হত্যা মামলায় ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছে আদালত। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়ে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের নিম্নোক্ত দণ্ড প্রদান করা হয়:
* মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত (৩ জন): শাহাদাত বেপারী, জাহাঙ্গীর বেপারী ও ইব্রাহিম বেপারী।
* যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত (৮ জন): মনির চৌকিদার, হায়াতুল ইসলাম চৌকিদার, হাবিব বেপারী, আশরাফুল খান, হুমায়ুন দেওয়ান, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান, আইয়ুব খাঁ ও লিটন বেপারী।
আসামিদের বর্তমান অবস্থা
দণ্ডিতদের মধ্যে শাহাদাত বেপারী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে ইব্রাহিম বেপারী, হাবিব বেপারী, এমদাদ হালদার এবং লিটন বেপারী পলাতক। এছাড়া জামিনে থাকা অপর ৬ আসামি রায় ঘোষণার সময় আদালতে অনুপস্থিত থাকায় সবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ জুন রাতে পূর্ব বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
১. আক্রমণ: রাত ১টার দিকে এমদাদ জরুরি কথা আছে বলে শ্যামলকে ঘর থেকে ডেকে তোলে।
২. গুলি ও নির্যাতন: দরজা খোলার সাথে সাথেই শাহাদাত, জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহিমসহ কয়েকজন শ্যামলের হাত ও পায়ে গুলি করে। এরপর তাকে টেনে-হেঁচড়ে উঠানে নিয়ে এসে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।
৩. মৃত্যু নিশ্চিতকরণ: মৃত্যু নিশ্চিত করতে হাবিব মাথায় গুলি করে এবং শাহাদাত বেপারী চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় কোপ দেয়।
৪. আতঙ্ক সৃষ্টি: স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ১৫ জুন মুন্সীগঞ্জ থানায় মামলা করেন নিহতের ভাই ইব্রাহিম মিয়া। ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ চার্জশিট দাখিল করলে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। বিচার চলাকালে মোট ৩৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করলেন।



















