০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোরে রাত নামলেই বেপরোয়া ‘ছদ্মবেশী হিজড়া চক্র’, নারী সেজে চুরি-প্রতারণায় আতঙ্ক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ৬০১

রাত নামলেই যশোর শহরের আলো-আঁধারিতে সক্রিয় হয়ে উঠছে এক রহস্যজনক চক্র, যারা হিজড়া সেজে শহরে অপরাধের জাল বুনছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এরা মূলত পুরুষ, যারা আধুনিক সাজে সজ্জিত হয়ে প্রতারণা ও চুরির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।
সূত্রমতে, সন্ধ্যার পর থেকেই এই চক্রের সদস্যরা শহরের জনবহুল এলাকা—মনিহার, নড়াইল বাসস্ট্যান্ড, পৌর পার্ক ও বিভিন্ন শপিংমলে—অবস্থান নেয়। ভিড়ের মধ্যে এমনভাবে মিশে যায় যে সাধারণ মানুষ তাদের সন্দেহ করতে পারে না। সুযোগ পেলেই মুহূর্তের মধ্যে নারীদের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।
মুড়লী মোড় এলাকার ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সুবহান গাজী জানান, “ওরা খুব বন্ধুভাবাপন্ন আচরণ করে, হাসিমুখে কথা বলে। কিন্তু এক মুহূর্তেই ব্যাগ থেকে জিনিস উধাও। বাধা দিতে গেলে দল বেঁধে হামলা করে বসে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্র শুধু চুরি নয়—বিভিন্ন আপত্তিকর কর্মকাণ্ডেও জড়িত। অনেকে দাবি করেছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ শহরের কিছু পুরুষের সঙ্গে গোপনে রোমান্টিক সম্পর্কে লিপ্ত। খালদার রোডের ভাড়া বাসা, কোর্ট এলাকার অন্ধকার গলি কিংবা সিনেমা হলের আশপাশে এদের সন্দেহজনক আনাগোনা দেখা যায়।
বাহ্যিক সাজে গ্লিটার, গাঢ় লিপস্টিক ও কৃত্রিম খোপায় তারা নিজেদের ছদ্মবেশকে আড়াল করার চেষ্টা করলেও, হাতের রঙের সঙ্গে মুখের রঙের অমিল, নকল চুল ও কৃত্রিম ভঙ্গিমায় তাদের আসল পরিচয় প্রায়শই প্রকাশ হয়ে পড়ে।
যশোর শহরের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ওদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে দল বেঁধে হামলার শিকার হতে হয়। তাই সবাই ভয়ে চুপ থাকে।”
দীর্ঘদিন ধরে শহরে এই চক্রের তৎপরতা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো তেমন কঠোর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত উদ্যোগ না নিলে এই ছদ্মবেশি চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত খান জানান, “এসব ছদ্মবেশী প্রতারক হিজড়া চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ছদ্মবেশে অভিযান পরিচালনা করছে।”

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় ৪০ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

যশোরে রাত নামলেই বেপরোয়া ‘ছদ্মবেশী হিজড়া চক্র’, নারী সেজে চুরি-প্রতারণায় আতঙ্ক

আপডেট: ০১:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

রাত নামলেই যশোর শহরের আলো-আঁধারিতে সক্রিয় হয়ে উঠছে এক রহস্যজনক চক্র, যারা হিজড়া সেজে শহরে অপরাধের জাল বুনছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এরা মূলত পুরুষ, যারা আধুনিক সাজে সজ্জিত হয়ে প্রতারণা ও চুরির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।
সূত্রমতে, সন্ধ্যার পর থেকেই এই চক্রের সদস্যরা শহরের জনবহুল এলাকা—মনিহার, নড়াইল বাসস্ট্যান্ড, পৌর পার্ক ও বিভিন্ন শপিংমলে—অবস্থান নেয়। ভিড়ের মধ্যে এমনভাবে মিশে যায় যে সাধারণ মানুষ তাদের সন্দেহ করতে পারে না। সুযোগ পেলেই মুহূর্তের মধ্যে নারীদের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।
মুড়লী মোড় এলাকার ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সুবহান গাজী জানান, “ওরা খুব বন্ধুভাবাপন্ন আচরণ করে, হাসিমুখে কথা বলে। কিন্তু এক মুহূর্তেই ব্যাগ থেকে জিনিস উধাও। বাধা দিতে গেলে দল বেঁধে হামলা করে বসে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্র শুধু চুরি নয়—বিভিন্ন আপত্তিকর কর্মকাণ্ডেও জড়িত। অনেকে দাবি করেছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ শহরের কিছু পুরুষের সঙ্গে গোপনে রোমান্টিক সম্পর্কে লিপ্ত। খালদার রোডের ভাড়া বাসা, কোর্ট এলাকার অন্ধকার গলি কিংবা সিনেমা হলের আশপাশে এদের সন্দেহজনক আনাগোনা দেখা যায়।
বাহ্যিক সাজে গ্লিটার, গাঢ় লিপস্টিক ও কৃত্রিম খোপায় তারা নিজেদের ছদ্মবেশকে আড়াল করার চেষ্টা করলেও, হাতের রঙের সঙ্গে মুখের রঙের অমিল, নকল চুল ও কৃত্রিম ভঙ্গিমায় তাদের আসল পরিচয় প্রায়শই প্রকাশ হয়ে পড়ে।
যশোর শহরের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ওদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে দল বেঁধে হামলার শিকার হতে হয়। তাই সবাই ভয়ে চুপ থাকে।”
দীর্ঘদিন ধরে শহরে এই চক্রের তৎপরতা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো তেমন কঠোর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত উদ্যোগ না নিলে এই ছদ্মবেশি চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত খান জানান, “এসব ছদ্মবেশী প্রতারক হিজড়া চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ছদ্মবেশে অভিযান পরিচালনা করছে।”