০৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কলকাতায় হোটেল সংকটে বিপাকে বাংলাদেশি রোগীরা, হাসপাতালের বাইরে রাত কাটানোর অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৯

চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়ে আবাসন সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাংলাদেশের বহু রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ডের পর শহরের বিপুলসংখ্যক আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউস বন্ধ করে দেওয়ায় হাসপাতালের আশপাশে থাকার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে ক্যানসারসহ জটিল রোগের চিকিৎসা নিতে কলকাতায় যাওয়া রোগীদের অনেকে হোটেল না পেয়ে হাসপাতালের বাইরে কিংবা রাস্তায় রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চিকিৎসার পাশাপাশি খাবার, বিশ্রাম ও নিরাপদে থাকার বিষয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তাঁরা।

গত ১৮ আগস্ট কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘুমন্ত অবস্থায় নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন।

এ ঘটনার পর কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও কলকাতা পুলিশ শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউসে পরিদর্শন শুরু করে। অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভবনের অবকাঠামো ও জরুরি পরিস্থিতিতে বের হওয়ার সুযোগসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।

পরিদর্শনের পর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় কলকাতার প্রায় ৮০০টি আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে।

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকা বাংলাদেশি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত একটি আবাসনকেন্দ্র। এলাকাটি অনেকের কাছে ‘মিনি বাংলাদেশ’ হিসেবেও পরিচিত।

হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশি রোগীদের বড় একটি অংশ এখন আবাসন সংকটে পড়েছেন। হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার জায়গা না পাওয়ায় অনেককে দূরের এলাকায় যেতে হচ্ছে। আবার কোথাও হোটেল পাওয়া গেলেও আগের তুলনায় বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

বিশেষ করে নিয়মিত কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। চিকিৎসার পর দুর্বল অবস্থায় দীর্ঘ পথ যাতায়াত করা কিংবা নিরাপদ আবাসন ছাড়া হাসপাতালে অপেক্ষা করা তাঁদের শারীরিক কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

হাসপাতালের বাইরেও রাত কাটানোর অভিযোগ

আবাসন না পেয়ে কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজনকে হাসপাতালের বাইরে কিংবা রাস্তায় রাত কাটাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অসুস্থ রোগীদের বিশ্রাম, খাবার ও ওষুধ গ্রহণের স্বাভাবিক ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।

শুধু বাংলাদেশিরাই নন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে কলকাতায় চিকিৎসা নিতে আসা ভারতীয় রোগী ও তাঁদের স্বজনেরাও একই আবাসন সংকটে পড়েছেন।

প্রশাসনের অভিযানের পর কলকাতাজুড়ে খোলা হোটেলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে যে অল্পসংখ্যক হোটেল বর্তমানে চালু রয়েছে, সেগুলোতে চাহিদা বেড়ে গেছে।

এ সুযোগে কোনো কোনো হোটেলে আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে সীমিত আয়ের রোগী ও স্বজনদের চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি আবাসনের বাড়তি খরচও বহন করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যান। তাঁদের বড় একটি অংশ নিউ মার্কেট, পার্ক স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করেন। হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে এসব এলাকার সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থাও তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তার স্বার্থে হোটেলগুলোতে অভিযান ও বন্ধের ফলে একদিকে যেমন অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের কঠোরতা বেড়েছে, অন্যদিকে চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের জন্য তৈরি হয়েছে জরুরি আবাসন সংকট।

ফলে রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসা নিতে আসা বিদেশি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে উঠেছে।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় ৪০ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

কলকাতায় হোটেল সংকটে বিপাকে বাংলাদেশি রোগীরা, হাসপাতালের বাইরে রাত কাটানোর অভিযোগ

আপডেট: ০৩:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়ে আবাসন সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাংলাদেশের বহু রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ডের পর শহরের বিপুলসংখ্যক আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউস বন্ধ করে দেওয়ায় হাসপাতালের আশপাশে থাকার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে ক্যানসারসহ জটিল রোগের চিকিৎসা নিতে কলকাতায় যাওয়া রোগীদের অনেকে হোটেল না পেয়ে হাসপাতালের বাইরে কিংবা রাস্তায় রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চিকিৎসার পাশাপাশি খাবার, বিশ্রাম ও নিরাপদে থাকার বিষয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তাঁরা।

গত ১৮ আগস্ট কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘুমন্ত অবস্থায় নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন।

এ ঘটনার পর কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও কলকাতা পুলিশ শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউসে পরিদর্শন শুরু করে। অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভবনের অবকাঠামো ও জরুরি পরিস্থিতিতে বের হওয়ার সুযোগসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।

পরিদর্শনের পর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় কলকাতার প্রায় ৮০০টি আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে।

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকা বাংলাদেশি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত একটি আবাসনকেন্দ্র। এলাকাটি অনেকের কাছে ‘মিনি বাংলাদেশ’ হিসেবেও পরিচিত।

হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশি রোগীদের বড় একটি অংশ এখন আবাসন সংকটে পড়েছেন। হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার জায়গা না পাওয়ায় অনেককে দূরের এলাকায় যেতে হচ্ছে। আবার কোথাও হোটেল পাওয়া গেলেও আগের তুলনায় বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

বিশেষ করে নিয়মিত কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। চিকিৎসার পর দুর্বল অবস্থায় দীর্ঘ পথ যাতায়াত করা কিংবা নিরাপদ আবাসন ছাড়া হাসপাতালে অপেক্ষা করা তাঁদের শারীরিক কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

হাসপাতালের বাইরেও রাত কাটানোর অভিযোগ

আবাসন না পেয়ে কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজনকে হাসপাতালের বাইরে কিংবা রাস্তায় রাত কাটাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অসুস্থ রোগীদের বিশ্রাম, খাবার ও ওষুধ গ্রহণের স্বাভাবিক ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।

শুধু বাংলাদেশিরাই নন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে কলকাতায় চিকিৎসা নিতে আসা ভারতীয় রোগী ও তাঁদের স্বজনেরাও একই আবাসন সংকটে পড়েছেন।

প্রশাসনের অভিযানের পর কলকাতাজুড়ে খোলা হোটেলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে যে অল্পসংখ্যক হোটেল বর্তমানে চালু রয়েছে, সেগুলোতে চাহিদা বেড়ে গেছে।

এ সুযোগে কোনো কোনো হোটেলে আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে সীমিত আয়ের রোগী ও স্বজনদের চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি আবাসনের বাড়তি খরচও বহন করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যান। তাঁদের বড় একটি অংশ নিউ মার্কেট, পার্ক স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করেন। হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে এসব এলাকার সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থাও তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তার স্বার্থে হোটেলগুলোতে অভিযান ও বন্ধের ফলে একদিকে যেমন অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের কঠোরতা বেড়েছে, অন্যদিকে চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের জন্য তৈরি হয়েছে জরুরি আবাসন সংকট।

ফলে রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসা নিতে আসা বিদেশি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে উঠেছে।