দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউসের শুল্কায়ণ গ্রুপ-৫-এ কর্মরত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) আ. রহিমের বিরুদ্ধে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে শুল্ক ফাঁকিতে সহায়তা এবং অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গ্রুপ-৫-এ দায়িত্ব পালনকালে একটি বড় মেশিনারি চালানের শুল্কায়ণে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়। বিধি অনুযায়ী আমদানি করা পণ্যের সঠিক বিবরণ, ক্যাটালগ ও অন্যান্য নথি যাচাই করে শুল্ক নির্ধারণের কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের প্রতিনিধির সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে উচ্চ শুল্কযোগ্য মেশিনারির ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম শুল্কের এইচএস কোড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু চালানে পণ্যের প্রকৃত ধরন ও পরিমাণ যথাযথভাবে যাচাই না করেই শুল্কায়ণ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ফাইল, পরীক্ষণ প্রতিবেদন ও শুল্কায়ণ নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছু চালানে ‘কমপ্লিট মেশিনারি’, ‘পার্টস অ্যান্ড আদার্স’সহ বিভিন্ন ধরনের ঘোষণা দিয়ে টু-হুইলার, থ্রি-হুইলার ও ফোর-হুইলারের যন্ত্রাংশ আমদানি করা হচ্ছে। এসব পণ্য শিল্প-কারখানার মেশিনারি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে কম হারে শুল্ক পরিশোধের সুযোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টমসের এক কর্মকর্তা বলেন, মেশিনারি ও ভারী পণ্যের ক্ষেত্রে যথাযথ পরীক্ষণ ও নথিপত্র যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগগুলো নিয়ে দাপ্তরিক তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
এদিকে, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমের পাশাপাশি সহকারী কমিশনার তৌফিকের বিরুদ্ধেও আমদানিকারকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কয়েকটি চালানে একাধিকবার পরীক্ষণের পরও পণ্য ছাড়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু আমদানিকারকের প্রতিনিধির সঙ্গে সমন্বয় করে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে গ্রুপ-৫-এর আওতাভুক্ত এইচএস কোডের পণ্য এনে ছাড়পত্র দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফাইল ও নথিপত্র পর্যালোচনা করলে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের এক ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, শুল্ক ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে। এআরও রহিমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আ. রহিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




















