কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বিদ্যালয়ের শৌচাগারে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আব্দুল মোতালেব নামের এক সহকারী শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে নাগেশ্বরী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগে সোমবার গভীর রাতে পুলিশ তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয়ে বিরতির সময় টয়লেট থেকে বের হওয়ার প্রাক্কালে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক ভেতরে টেনে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান শিক্ষক মোতালেব। এ সময় ছাত্রী চিৎকার শুরু করলে ওই শিক্ষক সেখান থেকে সরে যান। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী বিষয়টি বিদ্যালয়ের অন্যন্যদের এবং ছুটির পর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত জানায়।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, থানায় মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় এক মাদরাসার শিক্ষক ঘটনাটি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। এমনকি কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে বাধা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে রাতেই বিষয়টি কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়। পুলিশ সুপারের তাৎক্ষণিক নির্দেশে রাত দেড়টার দিকে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক প্রধানের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে শিক্ষক মোতালেবকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। একইসঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ছাত্রী ও তার বাবা-মাকেও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা জানান, এর প্রায় তিন মাস আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার মেয়ের দিকে কুনজরে তাকানোর অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি এই জঘন্য অপরাধের সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, ওই শিক্ষক যা করেছেন তা সম্পূর্ণ অন্যায় এবং তিনি এই ঘটনার সর্বোচ্চ বিচার দাবি করেন।


















