চুয়াডাঙ্গায় পৃথক তিনটি ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার দামুড়হুদা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামের লিটন আলী ও তার স্ত্রী লিপা খাতুন, দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার শফিকুল ইসলাম এবং সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের নাসির উদ্দিন।
মঙ্গলবার দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামে বৈদ্যুতিক মেশিন দিয়ে গরুর ঘাস কাটছিলেন কৃষক লিটন আলী। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
স্বামীকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় দেখে তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান স্ত্রী লিপা খাতুন। এ সময় তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর লিটন আলী ও লিপা খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামে নিজের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নাসির উদ্দিন।
পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নাসির উদ্দিন আলুকদিয়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
এদিকে মঙ্গলবার ভোরে দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামে টিউবওয়েলের বৈদ্যুতিক মোটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই শফিকুল ইসলাম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত শফিকুল ইসলাম দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে লোকনাথপুর এলাকায় একটি টিউবওয়েলের বৈদ্যুতিক মোটর চুরি করার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
একই দিনে জেলার পৃথক এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ, বৈদ্যুতিক মেশিন ও ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সময় অসাবধানতা এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঘটনাগুলোর বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে।

















