১০:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

১৩ বছর পর হত্যাচেষ্টার মামলা, সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারসহ ৮ জন আসামি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৩

যশোর প্রতিনিধি: যশোর জেলা কৃষক দলের সাবেক সহ-সভাপতি ও শহরের ঘোপ জেলরোড এলাকার বাসিন্দা নূরনবীকে মারধর করে হাত-পা ভেঙে এবং পায়ের রগ কেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ১৩ বছর পর নূরনবী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন—সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তহিদুর রহমান ওরফে ফন্টু চাকলাদার, সাবেক পৌর মেয়র রেন্টু চাকলাদার, শফি ওরফে পাইপ শফি, কালাম, রুবেল, রিন্টু ও আরও একজন।

মামলার অভিযোগে নূরনবী উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই রাত সাড়ে ৭টার দিকে ফন্টু চাকলাদার ফোন করে তাকে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের কাঁঠালতলার অফিসে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর কয়েকজন অস্ত্রের মুখে তাকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে শাহীন চাকলাদারসহ কয়েকজন সেখানে এসে নূরনবীকে গালিগালাজ করেন এবং তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। এরপর তাকে একটি ইজিবাইকে তুলে কাজীপাড়া আমতলা রোডের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে নূরনবীকে মাটিতে ফেলে বুক ও হাত-পা চেপে ধরে ধারালো ছুরি দিয়ে তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুই চোখ, পেট ও পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়। লোহার পাইপ দিয়েও তার দুই হাত ও পায়ে আঘাত করা হয়। এতে তার দুই হাত ও ডান পায়ের হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার পর আসামিরা নূরনবীর মোবাইল ফোন ও পকেটে থাকা ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা নিয়ে তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে চলে যান। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নূরনবীর অভিযোগ, আসামিদের ভয় ও প্রভাবের কারণে ঘটনার পর এতদিন তিনি মামলা করতে পারেননি। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় তিনি আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।

মামলার অভিযোগের বিষয়ে আদালতের নির্দেশে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজাসহ সাড়ে ৪ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

১৩ বছর পর হত্যাচেষ্টার মামলা, সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারসহ ৮ জন আসামি

আপডেট: ০৯:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

যশোর প্রতিনিধি: যশোর জেলা কৃষক দলের সাবেক সহ-সভাপতি ও শহরের ঘোপ জেলরোড এলাকার বাসিন্দা নূরনবীকে মারধর করে হাত-পা ভেঙে এবং পায়ের রগ কেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ১৩ বছর পর নূরনবী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন—সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তহিদুর রহমান ওরফে ফন্টু চাকলাদার, সাবেক পৌর মেয়র রেন্টু চাকলাদার, শফি ওরফে পাইপ শফি, কালাম, রুবেল, রিন্টু ও আরও একজন।

মামলার অভিযোগে নূরনবী উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই রাত সাড়ে ৭টার দিকে ফন্টু চাকলাদার ফোন করে তাকে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের কাঁঠালতলার অফিসে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর কয়েকজন অস্ত্রের মুখে তাকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে শাহীন চাকলাদারসহ কয়েকজন সেখানে এসে নূরনবীকে গালিগালাজ করেন এবং তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। এরপর তাকে একটি ইজিবাইকে তুলে কাজীপাড়া আমতলা রোডের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে নূরনবীকে মাটিতে ফেলে বুক ও হাত-পা চেপে ধরে ধারালো ছুরি দিয়ে তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুই চোখ, পেট ও পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়। লোহার পাইপ দিয়েও তার দুই হাত ও পায়ে আঘাত করা হয়। এতে তার দুই হাত ও ডান পায়ের হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার পর আসামিরা নূরনবীর মোবাইল ফোন ও পকেটে থাকা ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা নিয়ে তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে চলে যান। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নূরনবীর অভিযোগ, আসামিদের ভয় ও প্রভাবের কারণে ঘটনার পর এতদিন তিনি মামলা করতে পারেননি। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় তিনি আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।

মামলার অভিযোগের বিষয়ে আদালতের নির্দেশে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে।