১১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

যশোরে বিয়ের পর স্ত্রীকে মুম্বাইয়ের পতিতালয়ে বিক্রির অভিযোগ, স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:২২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৪

যশোরে বিয়ের পর স্ত্রীকে ভারতের মুম্বাই শহরের একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে দায়ের করা মামলা কোতোয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে পুলিশ।

শনিবার (২২ আগস্ট) মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলার বাদী যশোর শহরতলীর রাজারহাট এলাকার মৃত আবু তালেবের স্ত্রী ফরিদা খানম। মামলায় আসামি করা হয়েছে যশোরের অভয়নগর উপজেলার হিদিয়া গোপীনাথপুর খাঁ বাড়ির মফিজ আলী খাঁনের ছেলে রাব্বানী খানকে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১১ জুলাই ফরিদা খানমের ২৬ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে রাব্বানী খানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রাব্বানী নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, গত ২২ মে রাব্বানী তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে আসেন এবং তাকে ভারতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। কিছুদিন পর আবার দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নেন। মেয়েটি নিরক্ষর হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তার কথা বিশ্বাস করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে গত ২৫ জুলাই মুম্বাই থেকে মোবাইল ফোনে ওই নারী তার মাকে জানান, তাকে সেখানে একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এর দুই দিন পর, ২৮ জুলাই রাব্বানী দেশে ফিরে আসেন।

মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে রাব্বানী এক সপ্তাহের মধ্যে সে দেশে ফিরে আসবে বলে পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও ওই নারী দেশে ফিরে আসেননি।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২ আগস্ট রাব্বানীকে বাড়িতে ডেকে মেয়ের বিষয়ে জানতে চান ফরিদা খানম। এ সময় তিনি হুমকি-ধমকি দেন এবং মেয়েকে ভারতে বিক্রি করে দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।

ঘটনার পর হতবাক হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ফরিদা খানম আদালতের শরণাপন্ন হন। পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত করে এবং ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর মামলাটি কোতোয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করে।

কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান জানান, মামলাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত রাব্বানী খানকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রাব্বানী খানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজাসহ সাড়ে ৪ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

যশোরে বিয়ের পর স্ত্রীকে মুম্বাইয়ের পতিতালয়ে বিক্রির অভিযোগ, স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট: ১১:২২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

যশোরে বিয়ের পর স্ত্রীকে ভারতের মুম্বাই শহরের একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে দায়ের করা মামলা কোতোয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে পুলিশ।

শনিবার (২২ আগস্ট) মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলার বাদী যশোর শহরতলীর রাজারহাট এলাকার মৃত আবু তালেবের স্ত্রী ফরিদা খানম। মামলায় আসামি করা হয়েছে যশোরের অভয়নগর উপজেলার হিদিয়া গোপীনাথপুর খাঁ বাড়ির মফিজ আলী খাঁনের ছেলে রাব্বানী খানকে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১১ জুলাই ফরিদা খানমের ২৬ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে রাব্বানী খানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রাব্বানী নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, গত ২২ মে রাব্বানী তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে আসেন এবং তাকে ভারতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। কিছুদিন পর আবার দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নেন। মেয়েটি নিরক্ষর হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তার কথা বিশ্বাস করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে গত ২৫ জুলাই মুম্বাই থেকে মোবাইল ফোনে ওই নারী তার মাকে জানান, তাকে সেখানে একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এর দুই দিন পর, ২৮ জুলাই রাব্বানী দেশে ফিরে আসেন।

মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে রাব্বানী এক সপ্তাহের মধ্যে সে দেশে ফিরে আসবে বলে পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও ওই নারী দেশে ফিরে আসেননি।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২ আগস্ট রাব্বানীকে বাড়িতে ডেকে মেয়ের বিষয়ে জানতে চান ফরিদা খানম। এ সময় তিনি হুমকি-ধমকি দেন এবং মেয়েকে ভারতে বিক্রি করে দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।

ঘটনার পর হতবাক হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ফরিদা খানম আদালতের শরণাপন্ন হন। পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত করে এবং ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর মামলাটি কোতোয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করে।

কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান জানান, মামলাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত রাব্বানী খানকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রাব্বানী খানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।