নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর:
যশোরের চৌগাছায় বিরোধপূর্ণ একটি জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের হুমকি এবং প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন এক ব্যবসায়ী। মামলায় সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে আদালতের নির্দেশে তদন্ত চলাকালেই বিরোধপূর্ণ জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা উপজেলার নিরিবিলি পাড়ার বাসিন্দা আতিকুর রহমান লেটু অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চৌগাছা মৌজার জে.এল. নং-১১১, আরএস খতিয়ান নং-১৩৯-এর আরএস দাগ নং-৮৪০-এর ১.০৪ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে বাদীপক্ষ তাদের ছেলের নামে পরিচালিত সার ও কীটনাশকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ভোগদখল করে আসছেন। জমির নামজারি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্তরা কোদাল, কুড়াল, দা ও শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে বাদী ঘটনাস্থলে গেলে তাকে হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে তারা টিনের বেড়া খুলে ফেলে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একটি অংশ ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে বাদী ও তার ছেলেকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে মো. তরিকুল ইসলাম, মো. মনিরুল ইসলাম, ইছাহক আলী, মাজেদুল, সোহাগ হোসেন সোহাগ, নাইমুজ্জামান সুমন ও মো. শফিকুল ইসলামকে।
আদালতের নির্দেশের পর গত ৫ আগস্ট চৌগাছা থানার এসআই আব্দুস সাত্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং বিরোধপূর্ণ জমির বর্তমান অবস্থা সংরক্ষণের স্বার্থে আলামত হিসেবে মোবাইল ফোনে ছবি ধারণ করেন।
তবে বাদীপক্ষের দাবি, তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় গত ৬ আগস্ট সকালে বিবাদীপক্ষ আদালতের নির্দেশ ও আইনগত প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমির ওপর একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
মামলার বিষয়ে তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।




















