১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল স্থলবন্দরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, পানিতে তলিয়ে কোটি টাকার আমদানিপণ্য; ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:১৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৬

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের একাধিক শেডে হাঁটুপানি জমে ভারত থেকে আমদানি করা কোটি কোটি টাকার পণ্য পানিতে ভিজে ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে চরম উদ্বেগে পড়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, জরুরি ভিত্তিতে পানি অপসারণের কাজ চলছে এবং স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে যশোরের বেনাপোল এলাকায় শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি রোববার (১২ জুলাই) পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ফলে বন্দরের তিন নম্বর গেটসংলগ্ন অন্তত পাঁচটি শেডে পানি ঢুকে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত পণ্য পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় পণ্য ওঠানামা ও পরিবহন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে পানি অপসারণের চেষ্টা চালালেও অবিরাম বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। এ সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত শেডগুলো পরিদর্শন করেন।

বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর হওয়া সত্ত্বেও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বন্দরের শেড ও ইয়ার্ডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার আমদানিপণ্য ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ে।

তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন বন্দর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে এবারও প্রায় শতাধিক আমদানিকারক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অধিকাংশ পণ্যের বীমা না থাকায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগও নেই বলে জানান তারা।

ব্যবহারকারীরা আরও বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য অতীতে কমিটি গঠন করা হলেও তার কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। গত বর্ষায় কিছুদিন তৎপরতা দেখা গেলেও পরে আর কোনো পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী মো. আব্দুল করিম বলেন, “পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বন্দরের ভেতরে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি শেডে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের লাখ লাখ টাকার পণ্য নষ্ট হয়েছে। প্রতিবছর বন্দর ফি ও ভাড়া বাড়ানো হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবেই প্রতিবছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।”

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, “অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বেনাপোল কাস্টমসের মাধ্যমে সরকার বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও বন্দরের মৌলিক অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। শেডে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

যা বলছে বন্দর কর্তৃপক্ষ

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে কয়েকটি শেডে পানি ঢুকে কিছু পণ্য ভিজেছে। পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে দ্রুত পানি অপসারণের কাজ চলছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি নিষ্কাশনে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজও চলমান রয়েছে।”

প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষা মৌসুমে বেনাপোল স্থলবন্দরে জলাবদ্ধতায় আমদানিপণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আধুনিক পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

এনসিটিবিতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম

টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল স্থলবন্দরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, পানিতে তলিয়ে কোটি টাকার আমদানিপণ্য; ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

আপডেট: ১০:১৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের একাধিক শেডে হাঁটুপানি জমে ভারত থেকে আমদানি করা কোটি কোটি টাকার পণ্য পানিতে ভিজে ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে চরম উদ্বেগে পড়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, জরুরি ভিত্তিতে পানি অপসারণের কাজ চলছে এবং স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে যশোরের বেনাপোল এলাকায় শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি রোববার (১২ জুলাই) পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ফলে বন্দরের তিন নম্বর গেটসংলগ্ন অন্তত পাঁচটি শেডে পানি ঢুকে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত পণ্য পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় পণ্য ওঠানামা ও পরিবহন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে পানি অপসারণের চেষ্টা চালালেও অবিরাম বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। এ সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত শেডগুলো পরিদর্শন করেন।

বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর হওয়া সত্ত্বেও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বন্দরের শেড ও ইয়ার্ডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার আমদানিপণ্য ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ে।

তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন বন্দর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে এবারও প্রায় শতাধিক আমদানিকারক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অধিকাংশ পণ্যের বীমা না থাকায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগও নেই বলে জানান তারা।

ব্যবহারকারীরা আরও বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য অতীতে কমিটি গঠন করা হলেও তার কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। গত বর্ষায় কিছুদিন তৎপরতা দেখা গেলেও পরে আর কোনো পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী মো. আব্দুল করিম বলেন, “পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বন্দরের ভেতরে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি শেডে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের লাখ লাখ টাকার পণ্য নষ্ট হয়েছে। প্রতিবছর বন্দর ফি ও ভাড়া বাড়ানো হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবেই প্রতিবছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।”

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, “অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বেনাপোল কাস্টমসের মাধ্যমে সরকার বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও বন্দরের মৌলিক অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। শেডে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

যা বলছে বন্দর কর্তৃপক্ষ

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে কয়েকটি শেডে পানি ঢুকে কিছু পণ্য ভিজেছে। পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে দ্রুত পানি অপসারণের কাজ চলছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি নিষ্কাশনে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজও চলমান রয়েছে।”

প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষা মৌসুমে বেনাপোল স্থলবন্দরে জলাবদ্ধতায় আমদানিপণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আধুনিক পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।