১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফিরেই না–ফেরার দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার জেইডেন অ্যাডামস

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৯

২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মাঠ মাতানোর পর দেশে ফিরেই না–ফেরার দেশে চলে গেলেন জাতীয় দলের তরুণ মিডফিল্ডার জেইডেন অ্যাডামস। চলতি জুলাইয়ে ২৫ বছরে পা রাখা এই প্রতিভাবান ফুটবলারকে কেপ টাউনে নিজ বাসভবনে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেপ টাউনের সেন্ট্রাল এলাকার শহরতলি স্কটশে ক্লুফের একটি বাড়ি থেকে ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দল ‘বাফানা বাফানা’ এবং মামেলোদি সানডাউনসের মিডফিল্ডার জেইডেন অ্যাডামস।

তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচে খেলেছিলেন অ্যাডামস। বিশ্বকাপে তার নৈপুণ্য ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়ে। দেশে ফেরার অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে সমগ্র ক্রীড়াঙ্গনে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রী গেটন ম্যাকেনজি এক বিবৃতিতে বলেন, “মামেলোদি সানডাউনস ও বাফানা বাফানার ২৫ বছর বয়সী মিডফিল্ডার জেইডেন অ্যাডামসের মৃত্যুর খবর আমাকে গভীরভাবে স্তব্ধ ও মর্মাহত করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল তার অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভাকে হারাল। একাডেমি থেকে উঠে এসে জাতীয় দলের তারকা হয়ে ওঠা এই ফুটবলারের অকাল বিদায়ে পুরো জাতি আজ শোকাহত।”

দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবল প্লেয়ার্স ইউনিয়ন (SAFPU) এক শোকবার্তায় জানায়, “জেইডেন অ্যাডামস কিছুদিন আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি গর্ব, সাহস ও কৃতিত্বের সঙ্গে দেশের আশা বহন করেছিলেন। তার মৃত্যু পরিবার, সতীর্থ, ক্লাব, ফুটবল অঙ্গন এবং সমগ্র দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”

জেইডেন অ্যাডামসের ফুটবল ক্যারিয়ারের সূচনা স্টেলেনবোশ এফসির যুব একাডেমিতে। ওই একাডেমি থেকে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনি পেশাদার চুক্তিতে সই করেন। স্টেলেনবোশের হয়ে ১৩৯টি ম্যাচ খেলেন এবং ২০২৩ সালে দলকে কার্লিং নকআউট শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার শীর্ষ ক্লাব মামেলোদি সানডাউনসে যোগ দেন। এরপর জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

মাত্র ২৫ বছর বয়সে জেইডেন অ্যাডামসের অকাল মৃত্যু দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার মৃত্যুতে পরিবার, সতীর্থ, সমর্থক এবং পুরো ফুটবল বিশ্ব গভীর শোক প্রকাশ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

সর্বাধিক পঠিত

এনসিটিবিতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম

বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফিরেই না–ফেরার দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার জেইডেন অ্যাডামস

আপডেট: ১০:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মাঠ মাতানোর পর দেশে ফিরেই না–ফেরার দেশে চলে গেলেন জাতীয় দলের তরুণ মিডফিল্ডার জেইডেন অ্যাডামস। চলতি জুলাইয়ে ২৫ বছরে পা রাখা এই প্রতিভাবান ফুটবলারকে কেপ টাউনে নিজ বাসভবনে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেপ টাউনের সেন্ট্রাল এলাকার শহরতলি স্কটশে ক্লুফের একটি বাড়ি থেকে ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দল ‘বাফানা বাফানা’ এবং মামেলোদি সানডাউনসের মিডফিল্ডার জেইডেন অ্যাডামস।

তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচে খেলেছিলেন অ্যাডামস। বিশ্বকাপে তার নৈপুণ্য ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়ে। দেশে ফেরার অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে সমগ্র ক্রীড়াঙ্গনে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রী গেটন ম্যাকেনজি এক বিবৃতিতে বলেন, “মামেলোদি সানডাউনস ও বাফানা বাফানার ২৫ বছর বয়সী মিডফিল্ডার জেইডেন অ্যাডামসের মৃত্যুর খবর আমাকে গভীরভাবে স্তব্ধ ও মর্মাহত করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল তার অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভাকে হারাল। একাডেমি থেকে উঠে এসে জাতীয় দলের তারকা হয়ে ওঠা এই ফুটবলারের অকাল বিদায়ে পুরো জাতি আজ শোকাহত।”

দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবল প্লেয়ার্স ইউনিয়ন (SAFPU) এক শোকবার্তায় জানায়, “জেইডেন অ্যাডামস কিছুদিন আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি গর্ব, সাহস ও কৃতিত্বের সঙ্গে দেশের আশা বহন করেছিলেন। তার মৃত্যু পরিবার, সতীর্থ, ক্লাব, ফুটবল অঙ্গন এবং সমগ্র দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”

জেইডেন অ্যাডামসের ফুটবল ক্যারিয়ারের সূচনা স্টেলেনবোশ এফসির যুব একাডেমিতে। ওই একাডেমি থেকে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনি পেশাদার চুক্তিতে সই করেন। স্টেলেনবোশের হয়ে ১৩৯টি ম্যাচ খেলেন এবং ২০২৩ সালে দলকে কার্লিং নকআউট শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার শীর্ষ ক্লাব মামেলোদি সানডাউনসে যোগ দেন। এরপর জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

মাত্র ২৫ বছর বয়সে জেইডেন অ্যাডামসের অকাল মৃত্যু দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার মৃত্যুতে পরিবার, সতীর্থ, সমর্থক এবং পুরো ফুটবল বিশ্ব গভীর শোক প্রকাশ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।