জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তা তুহিনের বিরুদ্ধে স্বল্প সময়ের চাকরি জীবনে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, পণ্য খালাসে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৪ সালে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন তুহিন। প্রথমে যশোর ভ্যাট কমিশনারেটে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকেই স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত অবৈধ সুবিধা নেওয়ার মাধ্যমে দুর্নীতির যাত্রা শুরু হয় তার।
পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বন্ড কমিশনারেটে বদলি হন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল বলে সূত্রের দাবি। তবে পরে তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফিরে এসে আরও প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন এবং বিপুল অর্থের মালিক হন।
এরপর সিলেটের তামাবিল শুল্ক স্টেশনে দায়িত্ব পালনকালে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অবৈধ অর্থ আদায়, চোরাচালান সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং অবৈধ উপায়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। একই সময়ে অবৈধ আয়ের অর্থ গোপন করতে অন্যের ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে দায়িত্ব পালনকালে ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অভিযোগ, তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। বন্দরে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, চট্টগ্রামে কর্মরত থাকাকালে তিনি কয়েক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, রাজধানী ঢাকাসহ নিজ জেলা নেত্রকোনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি রাজধানীর রামপুরায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনার পাশাপাশি গুলশান এলাকায় উচ্চমূল্যের একটি ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। এছাড়া গ্রামের বাড়িতে জমি, আবাসন, বাণিজ্যিক বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের সঞ্চয়ের তথ্যও সামনে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তুহিনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। একাধিক বিয়ে ও পারিবারিক জটিলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কাস্টমস ও ভ্যাট কর্মকর্তা তুহিন প্রথমে আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “কাস্টমস ও ভ্যাটের কম-বেশি সবারই অবৈধ সম্পদ রয়েছে। কারও কম, কারও বেশি।”
তবে নিজের বিপুল সম্পদের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তার ভাষ্য, “দুদক আছে, আরও সংস্থা আছে, তারা দেখবে। আপনি দেখার কে?”—এ কথা বলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
একজন নন-ক্যাডার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা বিপুল সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




















