০৬:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন: হামলা, হত্যাচেষ্টা ও মামলা তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে বিচার দাবি নারীর

যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, হত্যাচেষ্টা, স্বর্ণালংকার লুট, শ্লীলতাহানি এবং মামলা তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন ঝিকরগাছা উপজেলার শিওরদাহ গ্রামের বাসিন্দা মুর্শিদা আক্তার রেনুকা। তিনি মনিরুজ্জামান মনিরের স্ত্রী।

শনিবার যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুর্শিদা আক্তার রেনুকা। এসময় তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দুপুরে তার পিত্রালয়ে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। প্রথমে প্রতিপক্ষের লোকজন বাড়িতে চলমান রান্নাঘর মেরামতের কাজে বাধা দেয়। পরে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ঝিকরগাছা উপজেলার শিওরদাহ গ্রামের ইসমাইল হোসেন গাজী, ইমরান হোসেন সরদার, আজিজুর রহমান রিপন, হাসেম আলী সরদার, সুমন কবীর, মিন্টু সরদার, সাকিব হোসেন, তানজিম হাসানসহ আরও কয়েকজন এ হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুর্শিদা আক্তার দাবি করেন, হামলাকারীরা ধারালো দা ও চাকু দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় তার গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ও ৬ আনা ওজনের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি হামলার সময় তাকে শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি সাতদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানান।

ঘটনার পর মুর্শিদা আক্তার ঝিকরগাছা আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি জি.আর-৪৬/২৫ নম্বরে রুজু হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তে প্রকৃত ঘটনা প্রতিফলিত হয়নি এবং প্রভাবশালী কয়েকজন আসামিকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তার দাবি, ইসমাইল হোসেন, সাকিব হোসেন, আজিজুর রহমান রিপন, তানজিম ও সুমন হোসেনকে চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মুর্শিদা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, মামলার এক আসামি তানজিম আদালত থেকে জামিন না নিয়েই সৌদি আরবে চলে গেছেন। এছাড়া ইসমাইল হোসেন ও তার ছেলে সাকিব হোসেন জামিন নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, মামলার অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হলেও প্রভাবশালী আসামিদের রক্ষায় বিভিন্ন মহল তৎপর রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আসামিরা জামিনে মুক্ত থেকে মামলা তুলে নিতে তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ তাদের আটক করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মুর্শিদা আক্তার প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে মামলার পুনঃতদন্ত, সকল আসামির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ চার্জশিট দাখিল এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা ইজ্জত আলী, বোন নুরুন্নাহার, স্বামী মনিরুজ্জামান মনির, ভাই শাহ আলম, চাচা গোলাম হোসেন ও দুলাভাই আলিম হোসেন।

শার্শায় ইকরামুল হত্যা মামলায় প্রেমিকা, স্বামীসহ ৪ জন আটক;

যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন: হামলা, হত্যাচেষ্টা ও মামলা তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে বিচার দাবি নারীর

আপডেট: ০৩:২৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, হত্যাচেষ্টা, স্বর্ণালংকার লুট, শ্লীলতাহানি এবং মামলা তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন ঝিকরগাছা উপজেলার শিওরদাহ গ্রামের বাসিন্দা মুর্শিদা আক্তার রেনুকা। তিনি মনিরুজ্জামান মনিরের স্ত্রী।

শনিবার যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুর্শিদা আক্তার রেনুকা। এসময় তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দুপুরে তার পিত্রালয়ে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। প্রথমে প্রতিপক্ষের লোকজন বাড়িতে চলমান রান্নাঘর মেরামতের কাজে বাধা দেয়। পরে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ঝিকরগাছা উপজেলার শিওরদাহ গ্রামের ইসমাইল হোসেন গাজী, ইমরান হোসেন সরদার, আজিজুর রহমান রিপন, হাসেম আলী সরদার, সুমন কবীর, মিন্টু সরদার, সাকিব হোসেন, তানজিম হাসানসহ আরও কয়েকজন এ হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুর্শিদা আক্তার দাবি করেন, হামলাকারীরা ধারালো দা ও চাকু দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় তার গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ও ৬ আনা ওজনের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি হামলার সময় তাকে শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি সাতদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানান।

ঘটনার পর মুর্শিদা আক্তার ঝিকরগাছা আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি জি.আর-৪৬/২৫ নম্বরে রুজু হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তে প্রকৃত ঘটনা প্রতিফলিত হয়নি এবং প্রভাবশালী কয়েকজন আসামিকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তার দাবি, ইসমাইল হোসেন, সাকিব হোসেন, আজিজুর রহমান রিপন, তানজিম ও সুমন হোসেনকে চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মুর্শিদা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, মামলার এক আসামি তানজিম আদালত থেকে জামিন না নিয়েই সৌদি আরবে চলে গেছেন। এছাড়া ইসমাইল হোসেন ও তার ছেলে সাকিব হোসেন জামিন নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, মামলার অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হলেও প্রভাবশালী আসামিদের রক্ষায় বিভিন্ন মহল তৎপর রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আসামিরা জামিনে মুক্ত থেকে মামলা তুলে নিতে তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ তাদের আটক করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মুর্শিদা আক্তার প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে মামলার পুনঃতদন্ত, সকল আসামির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ চার্জশিট দাখিল এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা ইজ্জত আলী, বোন নুরুন্নাহার, স্বামী মনিরুজ্জামান মনির, ভাই শাহ আলম, চাচা গোলাম হোসেন ও দুলাভাই আলিম হোসেন।