ভারতের তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়-কে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, কেন্দ্র সরকার ভবিষ্যতেও তামিলনাড়ুর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাবে।
রোববার (১০ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
থালাপতি বিজয়কে শুভেচ্ছা জানালেও বক্তব্যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেন মোদি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র ডিএমকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসকে ‘পেছন থেকে ছুরি মারা’ এবং ‘পরজীবী’ দল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মোদি বলেন,
“গত ২৫-৩০ বছর ধরে কংগ্রেস ও ডিএমকের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল। বিভিন্ন সংকটে ডিএমকের সমর্থন কংগ্রেসকে টিকিয়ে রেখেছিল।”
তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের আগে কেন্দ্রের ১০ বছরের সরকার পরিচালনায় ডিএমকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলাতেই কংগ্রেস সেই মিত্র দলকেই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন,
“ক্ষমতার লোভে অন্ধ কংগ্রেস প্রথম সুযোগেই ডিএমকের পেছনে ছুরি মেরেছে। এখন রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে তারা আবার অন্য দলের কাঁধে ভর করছে।”
তার এ মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-কেও পরোক্ষভাবে আক্রমণ করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের ৯ সদস্যের মন্ত্রিসভায় তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের সমন্বয় রাখা হয়েছে। সেখানে তার দল টিভিকের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা স্থান পেয়েছেন।
তবে সরকার গঠনে প্রাথমিক সমর্থন দেওয়া কংগ্রেসের কোনো সদস্যকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয় সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। তার দল নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়ার পর এবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার উত্থান তামিল রাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।




















