‘মায়ের চেয়ে আপন কেহ নাই’— সত্যিই তাই। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুরতম ডাক ‘মা’। জন্মের পর মানুষের মুখে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দও এই ‘মা’ শব্দটি। এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে গভীর স্নেহ, মমতা আর অকৃত্রিম ভালোবাসা।
আজ বিশ্ব মা দিবস। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার দিনটি পালন করা হয় মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য।
তবে মাকে ভালোবাসার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিন-তারিখের প্রয়োজন হয় না— প্রতিটি দিনই মায়ের জন্য সন্তানের ভালোবাসায় ভরা। তবুও বিশেষ এই দিনটি মায়ের প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর এক অনন্য সুযোগ।
প্রাচীন গ্রিসে মাতৃত্বকে সম্মান জানিয়ে উৎসব পালনের প্রচলন ছিল। তবে আধুনিক মা দিবসের সূচনা ঘটে যুক্তরাষ্ট্রে এক সমাজকর্মীর হাত ধরে।
ভার্জিনিয়ার সমাজকর্মী অ্যান নামে এক নারী নারী অধিকার ও শান্তি আন্দোলনে কাজ করতেন। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন “মাদারস ডে ওয়ার্ক ক্লাব”। তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস ছিলেন এই আন্দোলনের মূল অনুপ্রেরণা।
১৯০৫ সালে অ্যান জারভিসের মৃত্যুর পর তার মেয়ে অ্যানা জারভিস মায়ের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করেন। ১৯০৮ সালে তিনি প্রথমবার মা দিবস পালন করেন তার মায়ের প্রতিষ্ঠিত সানডে স্কুলে।
পরে ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে “মা দিবস” হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই বিশ্বজুড়ে দিনটি পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশেও দিনটি এখন ব্যাপকভাবে পালিত হয়। ঘরোয়া পরিবেশে সন্তানরা মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন ফুল, উপহার ও শুভেচ্ছা বার্তার মাধ্যমে। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মায়ের প্রতি আবেগঘন স্ট্যাটাস, কবিতা ও ছবি শেয়ার করেন।
এছাড়া বিভিন্ন ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠান এ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন ও পণ্য সংগ্রহ প্রকাশ করে থাকে।
মা দিবসের মূল বার্তা হলো— মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ ও স্নেহের প্রতি সম্মান জানানো। মা শুধু একজন অভিভাবক নন, তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, পথপ্রদর্শক ও সবচেয়ে কাছের বন্ধু।
মা দিবস তাই শুধু একটি দিন নয়, এটি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক। এই দিনে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি সন্তানের একটাই প্রার্থনা—
সব মায়ের জীবন হোক শান্তি, ভালোবাসা ও সুখে পরিপূর্ণ।




















