০৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর নামে বাড়ছে করের বোঝা, চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৩৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ৫১৪

গত অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হলেও বাস্তবে করদাতাদের ওপর বেড়েছে করের চাপ। উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে আয় না বাড়লেও নতুন কর কাঠামোর কারণে আগামী করবর্ষে বেশি কর গুনতে হবে সাধারণ মানুষকে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর নতুন কোনো উদ্যোগ নেয়নি সরকার। ফলে পূর্বনির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী কর দিতে হবে করদাতাদের।

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা পরবর্তী দুই করবর্ষের জন্য বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর পরবর্তী আয়ের ওপর করহার বাড়ানো হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আগে যেখানে এক লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ কর ছিল, এখন সেখানে ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। পরবর্তী ধাপগুলোতেও করহার বেড়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, মাসে ৬০ হাজার টাকা আয় করা একজন কর্মীকে আগে ১২ হাজার টাকা কর দিতে হলেও নতুন ব্যবস্থায় দিতে হবে ১৪ হাজার ৫০০ টাকা। একইভাবে ৭০ হাজার টাকা বেতনের ক্ষেত্রে কর বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২৩ হাজার ১৬৭ টাকা, যা আগে ছিল ১৮ হাজার ১৬৭ টাকা।

মাসে এক লাখ টাকা আয়কারীর ক্ষেত্রেও করের চাপ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। কোনো রেয়াত ছাড়া আগে যেখানে কর ছিল ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা। এমনকি বিনিয়োগে সর্বোচ্চ করছাড় পাওয়ার পরও করের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ পর্যন্ত।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের কর কাঠামো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনসহ এফবিসিসিআই করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার দাবি জানালেও সরকার তা বিবেচনায় নিচ্ছে না।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ালে করদাতার সংখ্যা কমে যেতে পারে এবং রাজস্ব আদায়ে চাপ তৈরি হবে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-এর অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাজেটে করনীতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি। একইসঙ্গে কর ফাঁকি রোধে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

অন্যদিকে ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশন-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন খান বলেন, করমুক্ত আয়সীমা না বাড়ালে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ আরও ভোগান্তিতে পড়বেন এবং সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হবেন।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে ফিলিং স্টেশনে আগুন: অকটেন আনলোডের সময় দগ্ধ শ্রমিক

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর নামে বাড়ছে করের বোঝা, চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

আপডেট: ১০:৩৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

গত অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হলেও বাস্তবে করদাতাদের ওপর বেড়েছে করের চাপ। উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে আয় না বাড়লেও নতুন কর কাঠামোর কারণে আগামী করবর্ষে বেশি কর গুনতে হবে সাধারণ মানুষকে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর নতুন কোনো উদ্যোগ নেয়নি সরকার। ফলে পূর্বনির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী কর দিতে হবে করদাতাদের।

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা পরবর্তী দুই করবর্ষের জন্য বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর পরবর্তী আয়ের ওপর করহার বাড়ানো হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আগে যেখানে এক লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ কর ছিল, এখন সেখানে ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। পরবর্তী ধাপগুলোতেও করহার বেড়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, মাসে ৬০ হাজার টাকা আয় করা একজন কর্মীকে আগে ১২ হাজার টাকা কর দিতে হলেও নতুন ব্যবস্থায় দিতে হবে ১৪ হাজার ৫০০ টাকা। একইভাবে ৭০ হাজার টাকা বেতনের ক্ষেত্রে কর বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২৩ হাজার ১৬৭ টাকা, যা আগে ছিল ১৮ হাজার ১৬৭ টাকা।

মাসে এক লাখ টাকা আয়কারীর ক্ষেত্রেও করের চাপ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। কোনো রেয়াত ছাড়া আগে যেখানে কর ছিল ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা। এমনকি বিনিয়োগে সর্বোচ্চ করছাড় পাওয়ার পরও করের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ পর্যন্ত।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের কর কাঠামো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনসহ এফবিসিসিআই করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার দাবি জানালেও সরকার তা বিবেচনায় নিচ্ছে না।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ালে করদাতার সংখ্যা কমে যেতে পারে এবং রাজস্ব আদায়ে চাপ তৈরি হবে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-এর অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাজেটে করনীতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি। একইসঙ্গে কর ফাঁকি রোধে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

অন্যদিকে ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশন-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন খান বলেন, করমুক্ত আয়সীমা না বাড়ালে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ আরও ভোগান্তিতে পড়বেন এবং সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হবেন।