০২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

টানা ৪ দিন বিদ্যুৎহীন হয়ে আছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:২০:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৩৯

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নে টানা চার দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ২টা থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় মঙ্গলবার পর্যন্তও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে পুরো এলাকা যেন ফিরে গেছে অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীতে।

প্রায় ৯৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের কুপির বাতি কিংবা হারিকেনের ক্ষীণ আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে। তীব্র গরম, ধোঁয়া আর অপ্রতুল আলোতে প্রস্তুতি নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তারা।
এসএসসি পরীক্ষার্থী তুষ্টি পাল ও তাওহীদ হাসান তানজিম জানান, পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট তাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কুপির ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করছে, আবার প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের ভাষায়, এই পরিস্থিতি তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার-এর কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, অনলাইন আবেদনসহ নানা জরুরি সেবা বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
কমলগঞ্জ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা পিংকি পাল বলেন, বিদ্যুৎ ছাড়া কম্পিউটার, প্রিন্টার কিংবা ইন্টারনেট—কোনোটিই চালানো সম্ভব নয়। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা কোনো সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় অনেকেই বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছেন না। স্থানীয় সাংবাদিকরাও পেশাগত দায়িত্ব পালনে সমস্যার মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক পাম্প বন্ধ থাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-এর জেনারেল ম্যানেজার এবিএম মিজানুর রহমান জানান, সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছ পড়ে এবং একাধিক স্থানে খুঁটি ও ইনসুলেটর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মূল সঞ্চালন লাইনে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মেরামত কাজে সময় লাগছে।
তিনি বলেন, রোববার থেকেই পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
তবে টানা চার দিন বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়—অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এই সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নের সঙ্গে এমন দীর্ঘ অন্ধকার যেন এক নির্মম বৈপরীত্য। কমলগঞ্জবাসীর এখন একটাই দাবি—অবিলম্বে আলো ফিরুক তাদের ঘরে, স্বাভাবিক হোক জীবনযাত্রা।
কুপির আলোয় পড়ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা, স্থবির জনজীবন**

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নে টানা চার দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ২টা থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় মঙ্গলবার পর্যন্তও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে পুরো এলাকা যেন ফিরে গেছে অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীতে।

প্রায় ৯৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের কুপির বাতি কিংবা হারিকেনের ক্ষীণ আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে। তীব্র গরম, ধোঁয়া আর অপ্রতুল আলোতে প্রস্তুতি নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তারা।
এসএসসি পরীক্ষার্থী তুষ্টি পাল ও তাওহীদ হাসান তানজিম জানান, পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট তাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কুপির ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করছে, আবার প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের ভাষায়, এই পরিস্থিতি তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার-এর কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, অনলাইন আবেদনসহ নানা জরুরি সেবা বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

কমলগঞ্জ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা পিংকি পাল বলেন, বিদ্যুৎ ছাড়া কম্পিউটার, প্রিন্টার কিংবা ইন্টারনেট—কোনোটিই চালানো সম্ভব নয়। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা কোনো সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় অনেকেই বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছেন না। স্থানীয় সাংবাদিকরাও পেশাগত দায়িত্ব পালনে সমস্যার মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক পাম্প বন্ধ থাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-এর জেনারেল ম্যানেজার এবিএম মিজানুর রহমান জানান, সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছ পড়ে এবং একাধিক স্থানে খুঁটি ও ইনসুলেটর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মূল সঞ্চালন লাইনে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মেরামত কাজে সময় লাগছে।

তিনি বলেন, রোববার থেকেই পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

তবে টানা চার দিন বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়—অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এই সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নের সঙ্গে এমন দীর্ঘ অন্ধকার যেন এক নির্মম বৈপরীত্য। কমলগঞ্জবাসীর এখন একটাই দাবি—অবিলম্বে আলো ফিরুক তাদের ঘরে, স্বাভাবিক হোক জীবনযাত্রা।

সর্বাধিক পঠিত

মন্দিরে নামযজ্ঞ চলাকালে মনিরামপুরে যুবককে কুপিয়ে জখম

টানা ৪ দিন বিদ্যুৎহীন হয়ে আছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ

আপডেট: ১০:২০:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নে টানা চার দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ২টা থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় মঙ্গলবার পর্যন্তও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে পুরো এলাকা যেন ফিরে গেছে অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীতে।

প্রায় ৯৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের কুপির বাতি কিংবা হারিকেনের ক্ষীণ আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে। তীব্র গরম, ধোঁয়া আর অপ্রতুল আলোতে প্রস্তুতি নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তারা।
এসএসসি পরীক্ষার্থী তুষ্টি পাল ও তাওহীদ হাসান তানজিম জানান, পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট তাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কুপির ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করছে, আবার প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের ভাষায়, এই পরিস্থিতি তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার-এর কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, অনলাইন আবেদনসহ নানা জরুরি সেবা বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
কমলগঞ্জ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা পিংকি পাল বলেন, বিদ্যুৎ ছাড়া কম্পিউটার, প্রিন্টার কিংবা ইন্টারনেট—কোনোটিই চালানো সম্ভব নয়। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা কোনো সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় অনেকেই বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছেন না। স্থানীয় সাংবাদিকরাও পেশাগত দায়িত্ব পালনে সমস্যার মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক পাম্প বন্ধ থাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-এর জেনারেল ম্যানেজার এবিএম মিজানুর রহমান জানান, সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছ পড়ে এবং একাধিক স্থানে খুঁটি ও ইনসুলেটর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মূল সঞ্চালন লাইনে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মেরামত কাজে সময় লাগছে।
তিনি বলেন, রোববার থেকেই পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
তবে টানা চার দিন বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়—অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এই সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নের সঙ্গে এমন দীর্ঘ অন্ধকার যেন এক নির্মম বৈপরীত্য। কমলগঞ্জবাসীর এখন একটাই দাবি—অবিলম্বে আলো ফিরুক তাদের ঘরে, স্বাভাবিক হোক জীবনযাত্রা।
কুপির আলোয় পড়ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা, স্থবির জনজীবন**

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নে টানা চার দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ২টা থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় মঙ্গলবার পর্যন্তও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে পুরো এলাকা যেন ফিরে গেছে অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীতে।

প্রায় ৯৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের কুপির বাতি কিংবা হারিকেনের ক্ষীণ আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে। তীব্র গরম, ধোঁয়া আর অপ্রতুল আলোতে প্রস্তুতি নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তারা।
এসএসসি পরীক্ষার্থী তুষ্টি পাল ও তাওহীদ হাসান তানজিম জানান, পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট তাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কুপির ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করছে, আবার প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের ভাষায়, এই পরিস্থিতি তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার-এর কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, অনলাইন আবেদনসহ নানা জরুরি সেবা বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

কমলগঞ্জ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা পিংকি পাল বলেন, বিদ্যুৎ ছাড়া কম্পিউটার, প্রিন্টার কিংবা ইন্টারনেট—কোনোটিই চালানো সম্ভব নয়। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা কোনো সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় অনেকেই বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছেন না। স্থানীয় সাংবাদিকরাও পেশাগত দায়িত্ব পালনে সমস্যার মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক পাম্প বন্ধ থাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-এর জেনারেল ম্যানেজার এবিএম মিজানুর রহমান জানান, সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছ পড়ে এবং একাধিক স্থানে খুঁটি ও ইনসুলেটর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মূল সঞ্চালন লাইনে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মেরামত কাজে সময় লাগছে।

তিনি বলেন, রোববার থেকেই পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

তবে টানা চার দিন বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়—অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এই সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নের সঙ্গে এমন দীর্ঘ অন্ধকার যেন এক নির্মম বৈপরীত্য। কমলগঞ্জবাসীর এখন একটাই দাবি—অবিলম্বে আলো ফিরুক তাদের ঘরে, স্বাভাবিক হোক জীবনযাত্রা।