২০২০ সালে ভারতের তামিলনাড়ুতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস পুলিশি হত্যাকাণ্ডের রায়ে আদালত ৯ জন পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। লকডাউন চলাকালীন দোকান খোলা রাখার অজুহাতে ব্যবসায়ী বাবা ও ছেলেকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করা হয়।
সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২৬) তামিলনাড়ুর মাদুরাই জেলা আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত এই ঘটনাকে ‘ক্ষমতার চরম অপব্যবহার’ এবং ‘বিরলতম ঘটনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। রায়ে আদালত স্পষ্ট করে বলেন যে, জনগণের টাকায় বেতনভুক্ত কর্মচারীরা মানসিক চাপের অজুহাতে এ ধরনের বর্বরতা চালাতে পারেন না।
* ইন্সপেক্টর শ্রীধর
* সাব-ইন্সপেক্টর বালাকৃষ্ণন ও রঘু গণেশ
* কনস্টেবল মুরুগান, সামাদুরাই, মুথুরাজা, চেল্লাদুরাই, টমাস ফ্রান্সিস ও ভেইলুমুথু।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২০ সালের ১৯ জুন, তামিলনাড়ুর থুথুকুডি জেলার সাথানকুলাম এলাকায়।
* অভিযোগ: ব্যবসায়ী পি. জয়রাজ এবং তাঁর ছেলে জে. বেনিক্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তারা লকডাউনের নির্ধারিত সময়ের পর দোকান খোলা রেখেছেন (যা পরবর্তী তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়)।
* নির্যাতন: থানায় নিয়ে গিয়ে বাবা ও ছেলেকে বিবস্ত্র করে সারারাত অমানবিক নির্যাতন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের একে অপরের সামনেই নিষ্ঠুরভাবে পেটানো হয়েছিল।
* মৃত্যু: নির্যাতনের ফলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। সেখানে কয়েক দিনের ব্যবধানেই বাবা ও ছেলে উভয়ের মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, তাদের শরীরে মলদ্বার দিয়ে রক্তপাতের মতো ভয়াবহ নির্যাতনের চিহ্ন ছিল।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও মাদ্রাজ হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে তদন্তের মোড় ঘোরে।
* সিবিআই (CBI) তদন্ত: কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই এই মামলাটি পরিচালনা করে। তদন্তে তিনজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য এবং অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ উপস্থাপিত হয়।
* আদালতের মন্তব্য: বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, এই নৃশংসতা মানবতার পরিপন্থী এবং সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, হাইকোর্টের নজরদারি না থাকলে প্রকৃত সত্য হয়তো কখনোই সামনে আসত না।
এই ঘটনাটি ২০২০ সালে কেবল ভারতেই নয়, সারা বিশ্বে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার ঘটনার সাথে তুলনা করে অনেকেই একে ‘ভারতের জর্জ ফ্লয়েড মামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। ৯ জন পুলিশ সদস্যের এই মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার ঘটনাটি বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।





















