ইরানে বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫-এর দ্বিতীয় বৈমানিকের নিখোঁজ হওয়ার খবরটি গোপন রাখতে চেয়েছিল পেন্টাগন। কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের ভেতর থেকে তথ্যফাঁস হওয়ার কারণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে সোর্সের নাম প্রকাশের আলটিমেটাম দিয়েছেন তিনি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সফলভাবে একজন বৈমানিককে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও দ্বিতীয় বৈমানিক নিখোঁজ ছিলেন। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই উদ্ধার অভিযানটি গোপন রাখা হয়েছিল যাতে ইরানি কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় বৈমানিকের উপস্থিতি টের না পায়।
তথ্যফাঁসে উদ্ধার অভিযানে বিপর্যয়
সোমবার হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে থাকা একজন ‘তথ্যফাঁসকারী’ এই গোপন সংবাদটি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে:
* খবরটি প্রকাশিত হওয়ার আগে ইরান জানত না যে আরও একজন বৈমানিক নিখোঁজ রয়েছেন।
* তথ্যটি গণমাধ্যমে আসার পরপরই ইরান সরকার ওই বৈমানিককে খুঁজে বের করতে বিশাল অংকের পুরস্কার ঘোষণা করে।
* এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ওই সেনাকে ধরার জন্য তল্লাশি শুরু হয়, যা মার্কিন উদ্ধার অভিযানকে কয়েক গুণ কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
> “তথ্যফাঁসকারী একজন অসুস্থ ব্যক্তি। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই ঘটনার শেষ দেখে ছাড়া হবে।” — ডোনাল্ড ট্রাম্প
ট্রাম্প এই ঘটনায় জড়িত সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, কর্তৃপক্ষ সরাসরি ওই সংবাদমাধ্যমের কাছে যাবে যারা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।
প্রেসিডেন্টের কঠোর বার্তা:
১. সংবাদমাধ্যমকে অবশ্যই তাদের তথ্যের উৎসের (সোর্স) পরিচয় প্রকাশ করতে হবে।
২. যদি তারা সোর্সের নাম প্রকাশ না করে, তবে সংশ্লিষ্টদের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে।
৩. ট্রাম্পের ভাষায়, ‘হয় সোর্সের নাম দিন, নয়তো জেলে যান।’
অস্পষ্টতা
বক্তব্য চলাকালীন ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে থাকলেও, ঠিক কোন সংবাদমাধ্যম এই খবরটি প্রথম প্রকাশ করেছে, সেটির নাম তিনি উল্লেখ করেননি। পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউস থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সংবাদ সংস্থার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে, যা আগামীতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নে বড় কোনো আইনি লড়াইয়ের রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনাম:
ইরানে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত: তথ্যফাঁসে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, সাংবাদিকদের জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি
-
নিউজ ডেস্ক - আপডেট: ০৯:১৩:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
- ৫১৯
সর্বাধিক পঠিত





















