০৯:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইউনূসের অবহেলায় ১৩৮ শিশুর মৃত্যু

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৪১:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২০

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের অবহেলার কারণে এ পর্যন্ত ১৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে হাজারের বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা চরম চাপের মধ্যে পড়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকা না পাওয়া এবং টিকার সংকট হামের বিস্তারে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার দাবি করে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম সরকারের সংশ্লিষ্ট আটটি দপ্তরে এ নোটিস পাঠান। নোটিসে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্টদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় হাইকোর্টে রিট করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়, ১৯৭৯ সালে দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) চালু হওয়ার পর থেকে শিশুদের বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছিল। পরবর্তীতে এই কর্মসূচিতে আরও টিকা যুক্ত করা হয়, যার মধ্যে হামের দ্বিতীয় ডোজও রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১,২৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন ৮,৫৩৪ জন এবং মারা গেছেন ১৩৮ জন। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১,০৯৯ জনের।

রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল—সবখানেই শয্যার তুলনায় রোগী কয়েকগুণ বেশি। অনেক অভিভাবক একাধিক হাসপাতাল ঘুরেও শয্যা পাচ্ছেন না।
চিকিৎসকদের মতে, হামের সঙ্গে অনেক শিশুর নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে। অপুষ্টিও একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এদিকে রাজশাহী ও সিলেটেও হামের কারণে শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে আলোচনা নয়: কঠোর বার্তা ইরানের স্পিকারের

ইউনূসের অবহেলায় ১৩৮ শিশুর মৃত্যু

আপডেট: ০৭:৪১:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের অবহেলার কারণে এ পর্যন্ত ১৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে হাজারের বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা চরম চাপের মধ্যে পড়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকা না পাওয়া এবং টিকার সংকট হামের বিস্তারে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার দাবি করে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম সরকারের সংশ্লিষ্ট আটটি দপ্তরে এ নোটিস পাঠান। নোটিসে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্টদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় হাইকোর্টে রিট করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়, ১৯৭৯ সালে দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) চালু হওয়ার পর থেকে শিশুদের বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছিল। পরবর্তীতে এই কর্মসূচিতে আরও টিকা যুক্ত করা হয়, যার মধ্যে হামের দ্বিতীয় ডোজও রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১,২৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন ৮,৫৩৪ জন এবং মারা গেছেন ১৩৮ জন। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১,০৯৯ জনের।

রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল—সবখানেই শয্যার তুলনায় রোগী কয়েকগুণ বেশি। অনেক অভিভাবক একাধিক হাসপাতাল ঘুরেও শয্যা পাচ্ছেন না।
চিকিৎসকদের মতে, হামের সঙ্গে অনেক শিশুর নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে। অপুষ্টিও একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এদিকে রাজশাহী ও সিলেটেও হামের কারণে শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।