০৯:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬

শার্শার পিআইও শাহারিয়ার রঞ্জুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: প্রকল্পের টাকা হরিলুটের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৩৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৬২

যশোরের শার্শা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে তিনি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ অর্থ পকেটে ভরছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল।

শার্শা ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য রেহেনা খাতুন পিআইও-র বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, গত এক বছর ধরে তাকে কেবল উপজেলা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু প্রকল্পের কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
রেহেনা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি কেবল স্বাক্ষর করেছি, কিন্তু প্রকল্পের টাকা কোথায় গেছে বা কারা কাজ করেছে তা আমি জানি না। পিআইও এবং ইউপি প্রশাসক নুরুজ্জামান যোগসাজশ করে টেন্ডারের আড়ালে প্রকল্পগুলো বাইরের ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে কোনো তদন্ত হলে তিনি এই অনিয়মের দায় নেবেন না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টিআর (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) ও কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের ক্ষেত্রে ভুয়া সদস্য তালিকা তৈরি করে বছরের পর বছর অর্থ লোপাট করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিচের প্রকল্পগুলোতে বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে:
* বেনাপোল পৌর গেট রং ও সৌন্দর্য বর্ধন: এখানে কাজের চেয়ে বরাদ্দকৃত অর্থের অপচয় বেশি হয়েছে বলে অভিযোগ।
* উপজেলা পরিষদ পার্ক সংস্কার: নামমাত্র সংস্কার দেখিয়ে বিপুল অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
* গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার: অধিকাংশ গ্রামীণ রাস্তায় কোনো কাজ না করেই সিংহভাগ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকায় পিআইও রঞ্জু একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ চক্র গড়ে তুলেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সরকারি অর্থের এমন হরিলুটের ঘটনায় শার্শাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে পিআইওর অবৈধ সম্পদের হিসাব এবং প্রকল্পের সঠিকতা যাচাই করা হোক। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল এই দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সর্বাধিক পঠিত

ইসরাফিল সরদারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি, বেনাপোলে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

শার্শার পিআইও শাহারিয়ার রঞ্জুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: প্রকল্পের টাকা হরিলুটের অভিযোগ

আপডেট: ০৮:৩৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

যশোরের শার্শা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে তিনি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ অর্থ পকেটে ভরছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল।

শার্শা ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য রেহেনা খাতুন পিআইও-র বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, গত এক বছর ধরে তাকে কেবল উপজেলা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু প্রকল্পের কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
রেহেনা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি কেবল স্বাক্ষর করেছি, কিন্তু প্রকল্পের টাকা কোথায় গেছে বা কারা কাজ করেছে তা আমি জানি না। পিআইও এবং ইউপি প্রশাসক নুরুজ্জামান যোগসাজশ করে টেন্ডারের আড়ালে প্রকল্পগুলো বাইরের ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে কোনো তদন্ত হলে তিনি এই অনিয়মের দায় নেবেন না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টিআর (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) ও কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের ক্ষেত্রে ভুয়া সদস্য তালিকা তৈরি করে বছরের পর বছর অর্থ লোপাট করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিচের প্রকল্পগুলোতে বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে:
* বেনাপোল পৌর গেট রং ও সৌন্দর্য বর্ধন: এখানে কাজের চেয়ে বরাদ্দকৃত অর্থের অপচয় বেশি হয়েছে বলে অভিযোগ।
* উপজেলা পরিষদ পার্ক সংস্কার: নামমাত্র সংস্কার দেখিয়ে বিপুল অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
* গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার: অধিকাংশ গ্রামীণ রাস্তায় কোনো কাজ না করেই সিংহভাগ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকায় পিআইও রঞ্জু একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ চক্র গড়ে তুলেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সরকারি অর্থের এমন হরিলুটের ঘটনায় শার্শাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে পিআইওর অবৈধ সম্পদের হিসাব এবং প্রকল্পের সঠিকতা যাচাই করা হোক। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল এই দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।