দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রমে নিয়োজিত শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি ও সুযোগ-সুবিধার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় বন্দরের ২৬ নম্বর শেডের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। আগামী ১৯ এপ্রিল ২০২৬ (রবিবার) থেকে এই কর্মসূচি কার্যকর হবে।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও সমাবেশ
বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিস্ট্রেশন নং- ৮৯১ ও ৯২৫) এর ব্যানারে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সভায় হাজার হাজার সাধারণ শ্রমিক অংশ নেন। ৯২৫ ইউনিয়ন-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তবিবুর রহমান তবির সভাপতিত্বে এবং ৮৯১ ইউনিয়ন-এর দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সঞ্চালনায় শ্রমিকরা তাদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে স্লোগান দেন।
সমাবেশে শ্রমিক নেতারা ও সাধারণ শ্রমিকরা বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন:
* অমানবিক মজুরি: শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাসে মাত্র ২১০০ টাকা বেতন প্রদান করছে, যা দৈনিক হিসেবে মাত্র ৭০ টাকা দাঁড়ায়। সকাল ৭টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনির পর এই মজুরি দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
* ঠিকাদারদের উদাসীনতা: গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ম্যানুয়াল ও ইকুইপমেন্ট পরিচালনাকারী ঠিকাদাররা শ্রমিক সংগঠনের সাথে কোনো যোগাযোগ রাখছেন না। এমনকি কর্মক্ষেত্রে কোনো শ্রমিক আহত বা নিহত হলেও ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে কোনো খোঁজখবর নেওয়া হয় না।
* সরঞ্জামের অভাব: বন্দরের ক্রেন, ফরক্লিপসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এর ফলে পণ্য খালাস ব্যাহত হচ্ছে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
* হিসাব বকেয়া: মাসিক টনভিত্তিক হিসাবের অর্থ নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করা হলেও ঠিকাদারদের অসহযোগিতায় শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা পাচ্ছেন না।
দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। স্মারকলিপিটি বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. সামীম হোসেনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কাস্টমস কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
শ্রমিক নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। তাই আগামী ১৯ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ম্যানুয়াল, ক্রেন, ফরক্লিপ ও সকল প্রকার ইকুইপমেন্টের অধীনে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ৯২৫-এর সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলী, ৮৯১-এর সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ৮৯১-এর সাধারণ সম্পাদক মো. লিটন হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দীন, ৯২৫-এর সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মজিদ, মো. জিয়াউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলামসহ দুই ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী সদস্যবৃন্দ।


















