যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আধুনিকায়নের ছোঁয়া লাগছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায়। ষাটের দশকে নির্মিত জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক চারতলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের দেশব্যাপী ১০৭টি থানা আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় এই বৃহৎ সংস্কার কাজ শুরু হচ্ছে।
প্রকল্পের বিস্তারিত ও ভবনের বিন্যাস
যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে এই নতুন ভবনটি নির্মিত হবে। ২৬ হাজার স্কয়ার ফিটের এই ভবনের মূল কাঠামো বা ফাউন্ডেশন হবে ছয়তলা পর্যন্ত, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি চারতলা হিসেবে সম্পন্ন করা হবে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই ভবনের বিন্যাস হবে নিম্নরূপ:
* প্রথম তলা: অভ্যর্থনা কেন্দ্র (রিসেপশন) ও প্রশাসনিক অফিস।
* দ্বিতীয় তলা: হাজতখানা ও অন্যান্য প্রশাসনিক শাখা।
* তৃতীয় তলা: কর্মকর্তাদের অফিস ও নারী পুলিশ সদস্যদের ব্যারাক।
* চতুর্থ তলা: পুরুষ পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক ব্যারাক।
ঝিনাইদহের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে এই নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হবে।
সাময়িক স্থানান্তর ও আবাসন চ্যালেঞ্জ
নির্মাণ কাজ চলাকালীন কোতোয়ালি মডেল থানার দাপ্তরিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পরিচালিত হবে। আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে বর্তমান জরাজীর্ণ ভবনটি খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে থানার বিশাল জনবল অনুযায়ী চাঁচড়া ফাঁড়িতে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় পুলিশ সদস্যদের সাময়িকভাবে কিছুটা আবাসন সংকটে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান জানান, জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হতো। উন্নত পুলিশি সেবার স্বার্থে সাময়িক এই আবাসন সংকট বা কষ্টটুকু মেনে নিতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন ভবন নির্মিত হলে পুলিশ সদস্যদের কর্মপরিবেশ উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষকে সেবা প্রদানের মান ও সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
ইতোমধ্যেই ভবন স্থানান্তরের প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক এই ভবনটি নির্মিত হলে যশোর শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সেবা প্রত্যাশীদের জন্য এটি একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


















