যশোরের শার্শা উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিএনজি, পিকআপ ও ভ্যান চালকদের মধ্যে কয়েক দিন ধরে চলা উত্তেজনা ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) কামারবাড়ি মোড় এলাকায় সংঘটিত এই সংঘর্ষে অন্তত ৩ জন ভ্যান চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিন আগে নাভারণ থেকে ছেড়ে আসা একটি সিএনজি শার্শার কামারবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভ্যান চালকদের সাথে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। সেই সাধারণ তর্কের জের ধরে সেদিন হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি মিমাংসা না হওয়ায় গত তিন দিন ধরেই উভয় পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
আজকের সংঘর্ষ ও হতাহত
বুধবার সকালে কামারবাড়ি মোড়ে আবারও উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলে পূর্ব শত্রুতার জেরে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রতিপক্ষের হামলায় তিন ভ্যান চালক আহত হন। আহতরা হলেন:
* মিন্টু
* আসিফ * শাহিন
আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সিএনজি ও পিকআপ চালক মালিক সমিতির সভাপতি মুস্তাক আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক রফিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তারা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
সংঘর্ষের খবর পেয়ে শার্শা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতিতে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন না থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার এবং আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, সামান্য সাইড দেওয়া বা সিরিয়াল নিয়ে তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু হওয়া এই বিরোধ বড় আকার ধারণ করছে। দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান না হলে কামারবাড়ি মোড় ও নাভারণ এলাকায় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তারা। স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের কাছে দ্রুত আন্তঃপরিবহন কোন্দল নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।













