যশোরে যৌতুকের দাবিতে ৫ বছরের সন্তানসহ হাসনা খাতুন (২২) নামে এক গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতনের পর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার মুনসেফপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী ওই নারী যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে স্বজনদের আশ্রয়ে রয়েছেন।
পারিবারিক ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭ বছর আগে সদর উপজেলার মুনসেফপুর গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে সৌদি প্রবাসী হুমায়ুন কবিরের সাথে হাসনা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ও পরবর্তী সময়ে হুমায়ুনকে বিদেশ পাঠানোর নাম করে যৌতুক হিসেবে ৩ লাখ টাকা প্রদান করে হাসনার পরিবার। তবে বিদেশে যাওয়ার পরও হুমায়ুন ও তার পরিবার আরও টাকার দাবিতে হাসনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।
গত মঙ্গলবার দুপুরে শাশুড়ি হনুফা বেগম হাসনাকে জোরপূর্বক তার স্বামী হুমায়ুনকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দেন। হাসনা এতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় নির্মম নির্যাতন। অভিযোগ অনুযায়ী:
* শাশুড়ি হনুফা বেগম লাঠি ও ঝাড়ু দিয়ে হাসনাকে বেধড়ক মারপিট করেন।
* তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।
* এক পর্যায়ে ৫ বছরের সন্তানসহ তাকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় ও স্বজনদের সহায়তায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী হাসনা খাতুন বাদী হয়ে তার শাশুড়ি হনুফা বেগম এবং প্রবাসে থাকা স্বামী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
> “যৌতুকের জন্য তারা আমাকে প্রায়ই মারধর করত। এবার তারা আমাকে এক কাপড়ে সন্তানসহ বের করে দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”
> — হাসনা খাতুন (ভুক্তভোগী)
যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দ্রষ্টব্য: এই ধরনের পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও নারী অধিকার কর্মীদের হস্তক্ষেপ









