০৩:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

পদত্যাগ করলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:২১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • ৫১২

দুর্নীতি, অসদাচরণ ও বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান। সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির নিকট তার পদত্যাগপত্রটি প্রেরণ করেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিচারপতি মো. রেজাউল হাসানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল। শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক বাদী হয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ওই বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিচারিক ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরা হয় এবং সংবিধান অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লিখিত প্রধান বিষয়সমূহ
অভিযোগপত্রে ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলার কার্যধারায় বিচারপতির পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের মূল বিষয়গুলো হলো:
* কাল্পনিক যুক্তিতর্ক: একটি মামলার শুনানিতে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র আইনজীবী অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও রায়ে তার নামে কাল্পনিক ও মিথ্যা যুক্তিতর্ক উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আপিল বিভাগ সেই রায়টি বাতিল করে দেয়।
* শেয়ার বাতিল: অন্য একটি মামলায় আবেদনকারীর স্ত্রীকে পক্ষভুক্ত না করেই তার মালিকানাধীন ১৩ লাখ শেয়ার বাতিল করা হয়, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং আইনবহির্ভূত বলে দাবি করা হয়েছে।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন বা শুরুর মুখেই বিচারপতির এই পদত্যাগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দেশের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। আইনি মহলের মতে, উচ্চ আদালতের স্বচ্ছতা, মর্যাদা এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনমানুষের আস্থা রক্ষার ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগের পরিণতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
> “সংবিধান অনুযায়ী উচ্চ আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তের প্রক্রিয়া চলাকালীন এই পদত্যাগ বিচারিক অঙ্গনে একটি বড় বার্তা প্রদান করছে।”
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করলে তা কার্যকর হবে এবং এর মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে। তবে ইতিপূর্বে হওয়া অন্যায়ের প্রতিকার নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানা গেছে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ: প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ

পদত্যাগ করলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান

আপডেট: ১২:২১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

দুর্নীতি, অসদাচরণ ও বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান। সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির নিকট তার পদত্যাগপত্রটি প্রেরণ করেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিচারপতি মো. রেজাউল হাসানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল। শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক বাদী হয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ওই বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিচারিক ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরা হয় এবং সংবিধান অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লিখিত প্রধান বিষয়সমূহ
অভিযোগপত্রে ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলার কার্যধারায় বিচারপতির পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের মূল বিষয়গুলো হলো:
* কাল্পনিক যুক্তিতর্ক: একটি মামলার শুনানিতে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র আইনজীবী অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও রায়ে তার নামে কাল্পনিক ও মিথ্যা যুক্তিতর্ক উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আপিল বিভাগ সেই রায়টি বাতিল করে দেয়।
* শেয়ার বাতিল: অন্য একটি মামলায় আবেদনকারীর স্ত্রীকে পক্ষভুক্ত না করেই তার মালিকানাধীন ১৩ লাখ শেয়ার বাতিল করা হয়, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং আইনবহির্ভূত বলে দাবি করা হয়েছে।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন বা শুরুর মুখেই বিচারপতির এই পদত্যাগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দেশের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। আইনি মহলের মতে, উচ্চ আদালতের স্বচ্ছতা, মর্যাদা এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনমানুষের আস্থা রক্ষার ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগের পরিণতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
> “সংবিধান অনুযায়ী উচ্চ আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তের প্রক্রিয়া চলাকালীন এই পদত্যাগ বিচারিক অঙ্গনে একটি বড় বার্তা প্রদান করছে।”
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করলে তা কার্যকর হবে এবং এর মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে। তবে ইতিপূর্বে হওয়া অন্যায়ের প্রতিকার নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানা গেছে।