ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে বসবাসরত নবাব মীর জাফরের পরিবারের শতাধিক সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনাটি রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুর্শিদাবাদের কিল্লা নিজামত এলাকায় বসবাসরত নবাব পরিবারের বংশধরদের নাম তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় মীর জাফরের ১৫তম বংশধর রেজা আলি মির্জাসহ পরিবারের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য রয়েছেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নবাব পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, নাম বাতিলের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তারা শুনানির নোটিশ পেয়েছিলেন। নোটিশ অনুযায়ী তারা সময়মতো উপস্থিত হয়ে যাবতীয় প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং প্রমাণাদি জমা দেন। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, শুনানির প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও রহস্যজনকভাবে অধিকাংশ সদস্যের নাম স্থায়ীভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ইতিহাসের পাতায় ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর ব্রিটিশদের সহযোগিতায় বাংলার সিংহাসনে বসেন মীর জাফর। তাঁর উত্তরসূরিরা বর্তমানে মুর্শিদাবাদের কিল্লা নিজামত এলাকায় বংশপরম্পরায় বসবাস করে আসছেন। ভারতের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে এভাবে গণহারে নাম বাদ পড়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
> “আমরা সমস্ত নথিপত্র জমা দিয়েছি, তবুও কেন আমাদের নাম বাদ দেওয়া হলো তা বুঝতে পারছি না।”
— রেজা আলি মির্জা, মীর জাফরের ১৫তম বংশধর।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের পেছনে কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে একটি ঐতিহাসিক পরিবারের সদস্যদের ভোটাধিকার হারানো নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে নানামুখী বিতর্ক শুরু হয়েছে।




















