০৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

সাতক্ষীরায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ঘরবাড়ির চাল উড়ে দিশেহারা ১৫ পরিবার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:৪৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ৫১৩

সাতক্ষীরায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও তীব্র শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। রোববার (২৯ মার্চ) রাত ১০টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ির চাল উড়ে গেছে এবং অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনজীবন। ঝড়ের কারণে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছের ডাল ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকা এখনো বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় অন্ধকারে রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সুলতানপুর এলাকা
ঝড়ের তীব্রতায় সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত ১৫টি পরিবারের বসতঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। ঝড়ের রাতে ঘরবাড়ি হারিয়ে নারী ও শিশুরা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর সময় কাটিয়েছেন।

জবেদা খাতুন জানান, ঝড়ে তার ঘরের চাল উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘরের ভেতরের সব আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।
* একই এলাকার বিউটি খাতুন ও এরশাদ হোসেন জানান, ঝড়ের গতিবেগ এত বেশি ছিল যে প্রাণ বাঁচাতে তারা ঘর ছেড়ে বাইরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
কৃষি ও আম বাগানে শিলাবৃষ্টির আঘাত
বসতবাড়ির পাশাপাশি এবারের শিলাবৃষ্টি সাতক্ষীরার প্রধান অর্থকরী ফসল আমের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন:
* ঝোড়ো হাওয়া ও বড় বড় শিলার আঘাতে গাছের আম ঝরে পড়েছে এবং অনেক আমে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
* এছাড়া চলতি মৌসুমের অন্যান্য কৃষিজমির ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

গাছপালা উপড়ে পড়া এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় রোববার রাত থেকেই সাতক্ষীরা শহরসহ বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কর্মীরা মেরামতের কাজ করলেও অনেক জায়গায় গাছ সরিয়ে লাইন সচল করতে সময় লাগছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্ত জানিয়েছেন, ঝড়ের পরপরই বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষয়ক্ষতির খবর আসতে শুরু করেছে। তিনি বলেন:
> “প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করার কাজ চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সর্বাধিক পঠিত

জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সীমান্তে কড়া নজরদারি: যশোরে বিজিবির বিশেষ অভিযান জোরদার

সাতক্ষীরায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ঘরবাড়ির চাল উড়ে দিশেহারা ১৫ পরিবার

আপডেট: ০১:৪৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

সাতক্ষীরায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও তীব্র শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। রোববার (২৯ মার্চ) রাত ১০টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ির চাল উড়ে গেছে এবং অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনজীবন। ঝড়ের কারণে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছের ডাল ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকা এখনো বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় অন্ধকারে রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সুলতানপুর এলাকা
ঝড়ের তীব্রতায় সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত ১৫টি পরিবারের বসতঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। ঝড়ের রাতে ঘরবাড়ি হারিয়ে নারী ও শিশুরা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর সময় কাটিয়েছেন।

জবেদা খাতুন জানান, ঝড়ে তার ঘরের চাল উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘরের ভেতরের সব আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।
* একই এলাকার বিউটি খাতুন ও এরশাদ হোসেন জানান, ঝড়ের গতিবেগ এত বেশি ছিল যে প্রাণ বাঁচাতে তারা ঘর ছেড়ে বাইরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
কৃষি ও আম বাগানে শিলাবৃষ্টির আঘাত
বসতবাড়ির পাশাপাশি এবারের শিলাবৃষ্টি সাতক্ষীরার প্রধান অর্থকরী ফসল আমের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন:
* ঝোড়ো হাওয়া ও বড় বড় শিলার আঘাতে গাছের আম ঝরে পড়েছে এবং অনেক আমে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
* এছাড়া চলতি মৌসুমের অন্যান্য কৃষিজমির ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

গাছপালা উপড়ে পড়া এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় রোববার রাত থেকেই সাতক্ষীরা শহরসহ বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কর্মীরা মেরামতের কাজ করলেও অনেক জায়গায় গাছ সরিয়ে লাইন সচল করতে সময় লাগছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্ত জানিয়েছেন, ঝড়ের পরপরই বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষয়ক্ষতির খবর আসতে শুরু করেছে। তিনি বলেন:
> “প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করার কাজ চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”