আন্তর্জাতিক বর্ণ বৈষম্য বিলোপ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে যশোরে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম)। রোববার (২৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে জেলা শাখার আয়োজনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের জেলা সভাপতি সূর্য বিশ্বাস-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কয়েকশ নেতাকর্মী তাদের অধিকার আদায়ের দাবিতে শামিল হন।
মানববন্ধনে বক্তারা দলিত জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সরকারের কাছে ৮টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
* বৈষম্য বিরোধী বিল-২০২২ সংশোধনপূর্বক দ্রুত পাস করা।
* সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও চাকরিতে দলিতদের জন্য বিশেষ কোটা প্রবর্তন।
* জাতীয় জনগণনায় দলিতদের পৃথক জাতিগত স্বীকৃতি প্রদান।
* বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আবাসন ও ভূমি অধিকার নিশ্চিতকরণ।
* পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান।
* জাতীয় সংসদে দলিতদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
স্থানীয় পর্যায়ে চরম বৈষম্যের অভিযোগ
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভের সাথে জানান, আধুনিক যুগেও যশোর জেলার বিভিন্ন এলাকায় দলিত জনগোষ্ঠী অমানবিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে হোটেল ও চায়ের দোকানে এখনো তাদের পৃথক পাত্রে খাবার পরিবেশন করা হয়, যা চরম অপমানজনক। তারা পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে বসে খাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযুক্ত এলাকাগুলো: বক্তারা সুনির্দিষ্টভাবে যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাঠি, শ্যামনগর, দত্তপাড়া, এড়েন্দা ও খাজুরা বাজার; বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর, নারকেলবাড়ীয়া, হাবুল্যা, জামদিয়া ও বালিয়াডাঙ্গা এবং চৌগাছা উপজেলার সনুয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় চলমান এই বৈষম্যমূলক আচরণের চিত্র তুলে ধরেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশাল বিশ্বাস, সুজন বিশ্বাস, চন্দনা বিশ্বাস ও স্বপ্ন বিশ্বাসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই অমানবিক প্রথা বন্ধে যশোর জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব হোটেল ও জনসমাগমস্থলে অভিযান চালিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং একটি বৈষম্যমুক্ত ও মানবিক সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।




















