০৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

ইরানে কয়েক সপ্তাহের ‘স্থল অভিযান’ চালাচ্ছে পেন্টাগন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৩৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ৫১৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে এবার ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী এক সীমিত স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তবে অভিযানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, পেন্টাগন গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানে এই স্থল অভিযানের বিস্তারিত নকশা তৈরি করে রেখেছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে যুদ্ধের একটি ‘নতুন পর্যায়’। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই অভিযান কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মতো হবে না; বরং এতে স্পেশাল অপারেশন বাহিনী এবং পদাতিক সেনাদের সমন্বয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়:
* সেনা মোতায়েন: ৪ হাজারের বেশি মার্কিন মেরিন সেনা জাহাজে করে পারস্য উপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
* প্রস্তুত প্যারাট্রুপার: ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপারদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
* অতিরিক্ত সেনা: প্রয়োজনে আরও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়ে পেন্টাগনে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে।

সামরিক পরিকল্পনাবিদদের আলোচনায় ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলোকে প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রাখার কথা বলা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সম্ভাব্য অভিযানটি ‘মাসব্যাপী নয়, বরং কয়েক সপ্তাহব্যাপী’ হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট এ প্রসঙ্গে বলেন, “প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নমনীয়তা ও বিকল্প পথ নিশ্চিত করতে পেন্টাগনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মানে এই নয় যে, প্রেসিডেন্ট এখনই অভিযানের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
যুদ্ধের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ক্ষয়ক্ষতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ অভিযান শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে:
: এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০-এরও বেশি আহত হয়েছেন।
: হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ইরানও দমে নেই; তারা ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিয়মিত পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে, কারণ হরমুজ প্রণালি বা খার্গ দ্বীপে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে হামের প্রকোপে উদ্বিগ্ন অভিভাবক: ২ মাসে আক্রান্ত দুই শতাধিক শিশু

ইরানে কয়েক সপ্তাহের ‘স্থল অভিযান’ চালাচ্ছে পেন্টাগন

আপডেট: ১২:৩৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে এবার ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী এক সীমিত স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তবে অভিযানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, পেন্টাগন গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানে এই স্থল অভিযানের বিস্তারিত নকশা তৈরি করে রেখেছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে যুদ্ধের একটি ‘নতুন পর্যায়’। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই অভিযান কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মতো হবে না; বরং এতে স্পেশাল অপারেশন বাহিনী এবং পদাতিক সেনাদের সমন্বয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়:
* সেনা মোতায়েন: ৪ হাজারের বেশি মার্কিন মেরিন সেনা জাহাজে করে পারস্য উপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
* প্রস্তুত প্যারাট্রুপার: ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপারদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
* অতিরিক্ত সেনা: প্রয়োজনে আরও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়ে পেন্টাগনে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে।

সামরিক পরিকল্পনাবিদদের আলোচনায় ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলোকে প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রাখার কথা বলা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সম্ভাব্য অভিযানটি ‘মাসব্যাপী নয়, বরং কয়েক সপ্তাহব্যাপী’ হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট এ প্রসঙ্গে বলেন, “প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নমনীয়তা ও বিকল্প পথ নিশ্চিত করতে পেন্টাগনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মানে এই নয় যে, প্রেসিডেন্ট এখনই অভিযানের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
যুদ্ধের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ক্ষয়ক্ষতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ অভিযান শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে:
: এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০-এরও বেশি আহত হয়েছেন।
: হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ইরানও দমে নেই; তারা ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিয়মিত পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে, কারণ হরমুজ প্রণালি বা খার্গ দ্বীপে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।