০১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

লারিজানি নিহত: ইরানের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ও ইসরায়েলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:২৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • ৫৩১

দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান এবং দেশটির বর্তমান ডি-ফ্যাক্টো শীর্ষ নেতা আলি লারিজানির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তেহরান। মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হন। ইসরায়েল প্রথমে এই দাবি করলেও ঘটনার প্রায় একদিন পর বুধবার রাতে ইরানি বার্তা সংস্থা ‘মেহের নিউজ’ নিরাপত্তা কাউন্সিলের বিবৃতির বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে।
শাহাদাতের গৌরব ও আদর্শিক লড়াই
জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলি লারিজানি ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ সমুন্নত রাখতে আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে তিনি তার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ‘শাহাদাত’ বরণ করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর লারিজানিই কার্যত ইরানের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। খামেনির অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী তিনি যুদ্ধের কমান্ড গ্রহণ করেছিলেন।
আইআরজিসির প্রতিশোধ: তেল আবিবে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র
লারিজানি হত্যার পরপরই ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী:
* লক্ষ্যবস্তু: তেল আবিবসহ ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থলে ১০০টিরও বেশি সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনা।
* অস্ত্র: অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
* ফলাফল: আইআরজিসি দাবি করেছে, ইসরায়েলের ‘অজেয়’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধসে পড়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
ইরানি গণমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, এই হামলাটি ছিল লারিজানি, তার পুত্র এবং এক সহযোগীকে হত্যার সরাসরি প্রতিশোধ।
ইসরায়েলের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, ইসরায়েলি জরুরি সেবা বিভাগ হামলার সত্যতা স্বীকার করেছে। তাদের তথ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ (শ্রাপনেল) পড়ে তেল আবিবে এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আলি লারিজানির মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে আসবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

সর্বাধিক পঠিত

তেজগাঁও বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম ও শিশুর জামিন, কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি

লারিজানি নিহত: ইরানের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ও ইসরায়েলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আপডেট: ১০:২৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান এবং দেশটির বর্তমান ডি-ফ্যাক্টো শীর্ষ নেতা আলি লারিজানির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তেহরান। মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হন। ইসরায়েল প্রথমে এই দাবি করলেও ঘটনার প্রায় একদিন পর বুধবার রাতে ইরানি বার্তা সংস্থা ‘মেহের নিউজ’ নিরাপত্তা কাউন্সিলের বিবৃতির বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে।
শাহাদাতের গৌরব ও আদর্শিক লড়াই
জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলি লারিজানি ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ সমুন্নত রাখতে আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে তিনি তার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ‘শাহাদাত’ বরণ করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর লারিজানিই কার্যত ইরানের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। খামেনির অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী তিনি যুদ্ধের কমান্ড গ্রহণ করেছিলেন।
আইআরজিসির প্রতিশোধ: তেল আবিবে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র
লারিজানি হত্যার পরপরই ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী:
* লক্ষ্যবস্তু: তেল আবিবসহ ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থলে ১০০টিরও বেশি সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনা।
* অস্ত্র: অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
* ফলাফল: আইআরজিসি দাবি করেছে, ইসরায়েলের ‘অজেয়’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধসে পড়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
ইরানি গণমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, এই হামলাটি ছিল লারিজানি, তার পুত্র এবং এক সহযোগীকে হত্যার সরাসরি প্রতিশোধ।
ইসরায়েলের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, ইসরায়েলি জরুরি সেবা বিভাগ হামলার সত্যতা স্বীকার করেছে। তাদের তথ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ (শ্রাপনেল) পড়ে তেল আবিবে এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আলি লারিজানির মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে আসবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।