০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কারাগারে প্রেম, বিয়েতে পরিণতি: ১৫ দিনের প্যারোলে মুক্তি পেলেন দুই দুর্ধর্ষ খুনি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৬৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রবাদ আছে, ‘প্রেম মানেনা কোনো বাধা’। ভারতের রাজস্থানে সেই প্রবাদকে বাস্তবে রূপ দিলেন দুই যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে শুরু হওয়া প্রেম এবার বিয়েতে রূপ নিতে যাচ্ছে। এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে রাজস্থান হাইকোর্ট বর ও কনে—উভয়কেই ১৫ দিনের জরুরি প্যারোলে মুক্তি দিয়েছেন।

এই বিয়ের বর ও কনে দুজনই ভারতের অপরাধ জগতের অত্যন্ত পরিচিত নাম। তাদের নৃশংস অপরাধের ইতিহাস সাধারণ মানুষের মনে এখনও আতঙ্ক সৃষ্টি করে:
* কনে প্রিয়া শেঠ: ২০১৮ সালে ‘টিন্ডার’ অ্যাপে প্রেমের ফাঁদে ফেলে দুষ্যন্ত শর্মা নামের এক যুবককে অপহরণ ও হত্যার দায়ে তিনি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত। মুক্তিপণ আদায়ের পর পরিচয় গোপন করতে তিনি দুষ্যন্তের মুখে অসংখ্যবার ছুরিকাঘাত করেছিলেন।
* বর হনুমান প্রসাদ: ২০১৭ সালে আলওয়ার জেলায় এক রাতেই পাঁচজনকে হত্যার দায়ে তিনি দণ্ডিত। পরকীয়ার জেরে প্রেমিকার স্বামীকে খুনের পর, ঘটনার একমাত্র সাক্ষী হওয়া চার ঘুমন্ত শিশুকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করেছিলেন তিনি।

বর্তমানে এই দুই কয়েদিই জয়পুরের সাঙ্গানের ওপেন জেলে (উন্মুক্ত কারাগার) সাজা ভোগ করছেন। প্রায় ছয় মাস আগে কারাগারের ভেতরেই তাদের প্রথম দেখা ও পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় গভীর প্রণয়ে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত তারা একে অপরের সঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতের কাছে বিয়ের আবেদন জানান।

রাজস্থান হাইকোর্ট দুই খুনি আসামির আবেদনের প্রেক্ষিতে মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের এই বিয়ের অনুমতি দেন। আজ শুক্রবার আলওয়ার জেলার বারোদামেভে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজস্থান জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে আইনের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসা পাচ্ছে, অন্যদিকে দুই দুর্ধর্ষ খুনির প্রতি এমন সহানুভূতি সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উসকে দিয়েছে।
বিশ্লেষণ: অপরাধ বিজ্ঞানে কারাগারকে সংশোধনাগার বলা হয়। এই বিয়ে কি অপরাধীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ইঙ্গিত, নাকি এটি কেবলই আইনের মারপ্যাঁচ—তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সর্বাধিক পঠিত

‘তেলের দাম ৭০০ টাকা হতো’—ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড নিয়ে যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

কারাগারে প্রেম, বিয়েতে পরিণতি: ১৫ দিনের প্যারোলে মুক্তি পেলেন দুই দুর্ধর্ষ খুনি

আপডেট: ০৬:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রবাদ আছে, ‘প্রেম মানেনা কোনো বাধা’। ভারতের রাজস্থানে সেই প্রবাদকে বাস্তবে রূপ দিলেন দুই যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে শুরু হওয়া প্রেম এবার বিয়েতে রূপ নিতে যাচ্ছে। এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে রাজস্থান হাইকোর্ট বর ও কনে—উভয়কেই ১৫ দিনের জরুরি প্যারোলে মুক্তি দিয়েছেন।

এই বিয়ের বর ও কনে দুজনই ভারতের অপরাধ জগতের অত্যন্ত পরিচিত নাম। তাদের নৃশংস অপরাধের ইতিহাস সাধারণ মানুষের মনে এখনও আতঙ্ক সৃষ্টি করে:
* কনে প্রিয়া শেঠ: ২০১৮ সালে ‘টিন্ডার’ অ্যাপে প্রেমের ফাঁদে ফেলে দুষ্যন্ত শর্মা নামের এক যুবককে অপহরণ ও হত্যার দায়ে তিনি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত। মুক্তিপণ আদায়ের পর পরিচয় গোপন করতে তিনি দুষ্যন্তের মুখে অসংখ্যবার ছুরিকাঘাত করেছিলেন।
* বর হনুমান প্রসাদ: ২০১৭ সালে আলওয়ার জেলায় এক রাতেই পাঁচজনকে হত্যার দায়ে তিনি দণ্ডিত। পরকীয়ার জেরে প্রেমিকার স্বামীকে খুনের পর, ঘটনার একমাত্র সাক্ষী হওয়া চার ঘুমন্ত শিশুকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করেছিলেন তিনি।

বর্তমানে এই দুই কয়েদিই জয়পুরের সাঙ্গানের ওপেন জেলে (উন্মুক্ত কারাগার) সাজা ভোগ করছেন। প্রায় ছয় মাস আগে কারাগারের ভেতরেই তাদের প্রথম দেখা ও পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় গভীর প্রণয়ে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত তারা একে অপরের সঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতের কাছে বিয়ের আবেদন জানান।

রাজস্থান হাইকোর্ট দুই খুনি আসামির আবেদনের প্রেক্ষিতে মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের এই বিয়ের অনুমতি দেন। আজ শুক্রবার আলওয়ার জেলার বারোদামেভে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজস্থান জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে আইনের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসা পাচ্ছে, অন্যদিকে দুই দুর্ধর্ষ খুনির প্রতি এমন সহানুভূতি সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উসকে দিয়েছে।
বিশ্লেষণ: অপরাধ বিজ্ঞানে কারাগারকে সংশোধনাগার বলা হয়। এই বিয়ে কি অপরাধীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ইঙ্গিত, নাকি এটি কেবলই আইনের মারপ্যাঁচ—তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।