১০:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:২৯:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১১

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন।
ন্যাম ভবনে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার

এর আগে রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
যে কারণে রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে রিমান্ডের পক্ষে বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেন। পুলিশের আবেদনে মূলত মরিয়মের মৃত্যুর সময় ঘটনাস্থলে কারা ছিলেন, তার ওপর কারও প্রভাব বা চাপ ছিল কি না এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি বা উসকানির অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের ভূমিকা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। 

আসামিপক্ষ অবশ্য রিমান্ডের বিরোধিতা করে তাদের জামিনের আবেদন করে। আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, তাদের মক্কেলরা নির্দোষ এবং রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মরিয়মের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর জন্য গাজী নজরুল ও অন্যদের দায়ী করে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। মামলায় আসামি হওয়া বা রিমান্ডে নেওয়া কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি বলা যায় না।

পুলিশের তদন্ত, ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কারও অপরাধমূলক দায় রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ হবে।

গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কের পর জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বর্তমান মামলাটি একটি ফৌজদারি তদন্তের বিষয় এবং এর আইনগত নিষ্পত্তি আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হবে।

বর্তমানে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাটিই তদন্তের মূল বিষয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্তে কী তথ্য পাওয়া যায় এবং পরবর্তী সময়ে আদালতে কী প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: আদালতের কার্যক্রম ও প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন।

সর্বাধিক পঠিত

‘তেলের দাম ৭০০ টাকা হতো’—ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড নিয়ে যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল

আপডেট: ১০:২৯:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন।
ন্যাম ভবনে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার

এর আগে রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
যে কারণে রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে রিমান্ডের পক্ষে বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেন। পুলিশের আবেদনে মূলত মরিয়মের মৃত্যুর সময় ঘটনাস্থলে কারা ছিলেন, তার ওপর কারও প্রভাব বা চাপ ছিল কি না এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি বা উসকানির অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের ভূমিকা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। 

আসামিপক্ষ অবশ্য রিমান্ডের বিরোধিতা করে তাদের জামিনের আবেদন করে। আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, তাদের মক্কেলরা নির্দোষ এবং রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মরিয়মের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর জন্য গাজী নজরুল ও অন্যদের দায়ী করে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। মামলায় আসামি হওয়া বা রিমান্ডে নেওয়া কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি বলা যায় না।

পুলিশের তদন্ত, ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কারও অপরাধমূলক দায় রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ হবে।

গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কের পর জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বর্তমান মামলাটি একটি ফৌজদারি তদন্তের বিষয় এবং এর আইনগত নিষ্পত্তি আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হবে।

বর্তমানে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাটিই তদন্তের মূল বিষয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্তে কী তথ্য পাওয়া যায় এবং পরবর্তী সময়ে আদালতে কী প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: আদালতের কার্যক্রম ও প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন।