আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনীসহ যৌথ বাহিনী মোতায়েনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্বাচনের আগে ও পরে মোট ১২ দিন মাঠে থেকে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করবে এই বাহিনী।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় স্বরাষ্ট্রসচিব নাসিমুল গনি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগের চার দিন, ভোটের দিন এবং পরবর্তী সাত দিন—অর্থাৎ মোট ১২ দিন দেশজুড়ে যৌথ বাহিনী মোতায়েন থাকবে।” এছাড়া গত বুধবার থেকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টিমগুলো ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি মনিটরিং শুরু করেছে।
পুলিশের প্রস্তুতি ও কঠোর নজরদারি
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন:
* অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার আগাম তথ্য পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
* নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রার্থী ও সমর্থকদের পালনীয় নিয়মগুলো সম্পর্কে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।
৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার সদস্যের নিরাপত্তাবলয়
নির্বাচনের নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় অংশীদার হিসেবে কাজ করবে আনসার ও ভিডিপি। বাহিনীর মুখপাত্র মো. আশিকউজ্জামান জানান, এবারের নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
:
* সারা দেশের ৪২,৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।
* এই ১৩ জনের মধ্যে ৩ জন অস্ত্রসহ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন (১ জন প্রিসাইডিং অফিসারের সাথে এবং ২ জন কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তায়)।
* বাকি ১০ জন (৬ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী) লাঠি হাতে শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবেন।
স্বাভাবিক ডিউটির পাশাপাশি সারা দেশে ১,১৯১টি ব্যাটালিয়ন আনসার ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে কাজ করবে। তারা মূলত ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় থাকবে। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় অনেক এলাকায় আগে থেকেই টহল কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।





















