শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা সাফ জানিয়ে দেন, হাইকোর্টের রায় শিক্ষার্থীদের পক্ষে না এলে পুরো ক্যাম্পাস ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ করে দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, “নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গতকালই (মঙ্গলবার) শাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি বিশেষ দলের প্ররোচনায় দুইজন প্রার্থী ভোটের মাত্র দুই দিন আগে হাইকোর্টে রিট করেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় নয় হাজার শিক্ষার্থীর গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে।” তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত শিক্ষার্থীদের অনুকূলে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের আবেগ ও আর্থিক ক্ষতির প্রসঙ্গ
জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম নির্বাচনে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, “শিক্ষার্থীরা দিনরাত পরিশ্রম করে প্রচারণা চালিয়েছেন। অনেকে টিউশনের টাকা খরচ করেছেন, কেউ কেউ ঋণ করে নির্বাচনী ব্যয় মিটিয়েছেন। ভোটের আগমুহূর্তে রিট করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে।” এই অপচেষ্টার জবাব সাধারণ শিক্ষার্থীরাই দেবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী ফয়সাল হোসেন আইনি জটিলতার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২১ দিনের মধ্যে অন্য নির্বাচন আয়োজনে বিধিনিষেধ থাকার কথা বলা হচ্ছে। তবে শাকসু নির্বাচনের তফশিল যেহেতু অনেক আগেই ঘোষণা করা হয়েছে, তাই এটিকে ওই বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা উচিত।” তিনি আরও যোগ করেন, কোনো ধরনের পেশিশক্তি বা চাপের মুখে নির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না।
* তফশিল অনুযায়ী অতি দ্রুত শাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
* হাইকোর্টের রায়ে শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে কঠোর আন্দোলনে যাবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
* দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য অচল (কমপ্লিট শাটডাউন) করে দেওয়া হবে।





















