১০:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন: নরসিংদী, নওগাঁ, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হিড়িক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:২৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৮০

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় নাটকীয়তা ও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে অনেক প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর মধ্যে নরসিংদীতে নিজ দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে এক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে না পারার ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি বিভিন্ন আসনে জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে অনেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।
নরসিংদীতে নাটকীয়তা ও দুই প্রার্থীর প্রত্যাহার
নরসিংদীতে এক বিচিত্র পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার একটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও সেক্রেটারি মো. আমজাদ হোসাইনকে তার নিজ বাসায় আটকে রাখেন দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা। এর ফলে তিনি শেষ সময়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে ব্যর্থ হন।
অন্যদিকে, জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে দুজন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তারা হলেন:
* নরসিংদী-২ (পলাশ): মো. ফারুক ভূঁইয়া (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)।
* নরসিংদী-৩ (শিবপুর): জগলুল হায়দার আফ্রিক (গণফোরাম)।
নওগাঁর ছয় আসনে চারজনের প্রত্যাহার
নওগাঁর ছয়টি সংসদীয় আসনে চারজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে বর্তমানে জেলায় চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। প্রত্যাহারকারীরা হলেন:
* নওগাঁ-২: দেলোয়ার হোসেন (ইসলামী আন্দোলন), আব্দুর রহমান (খেলাফতে মজলিস) এবং হুমায়ুন কবির চৌধুরী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)।
* নওগাঁ-৫: কাজী আতিকুর রহমান (এবি পার্টি)।
দিনাজপুরে পাঁচ প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো
দিনাজপুরের ছয়টি আসনে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় এখন নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকছেন ৪০ জন প্রার্থী।
* দিনাজপুর-২: সুধীর চন্দ্র শীল (জাতীয় পার্টি)।
* দিনাজপুর-৩: রেজাউল করিম (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)।
* দিনাজপুর-৫: ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. আব্দুল আহাদকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন আনোয়ার হোসেন (জামায়াত ইসলামী)। এছাড়া একই আসনে প্রত্যাহার করেছেন আব্দুল কাদের চৌধুরী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)।

শরীয়তপুরে দুই প্রার্থীর প্রত্যাহার
শরীয়তপুরের তিনটি আসনে মোট ২৩ জন বৈধ প্রার্থীর মধ্যে দুজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ২১ জন। প্রত্যাহারকারীরা হলেন:
শরীয়তপুর-১: মো. মোশারফ হোসেন (জামায়াতে ইসলামী)।
শরীয়তপুর-২: ফারহানা কাদের রহমান (স্বতন্ত্র)।
ঝালকাঠিতে মিতু ও ইরানসহ ৪ জনের প্রত্যাহার
ঝালকাঠিতে দুটি আসনে মোট চারজন প্রার্থী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাদের প্রত্যাহারের ফরম জমা দিয়েছেন।
ঝালকাঠি-১: ডা. মাহমুদা মিতু (এনসিপি), গোলাম আজম সৈকত (বিএনপির বিদ্রোহী/স্বতন্ত্র) এবং মোস্তাফিজুর রহমান ইরান (চেয়ারম্যান, লেবার পার্টি)।
ঝালকাঠি-২: শেখ জামাল (এবি পার্টি)।
মুন্সীগঞ্জে মীর শরফত আলী সপুসহ ৪ জনের প্রত্যাহার
মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসনে বর্তমানে ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শেষ দিনে চারজন প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জ-১: মীর শরফত আলী সপু (বিএনপির বিদ্রোহী ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক) ব্যক্তিগত কারণে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
মুন্সীগঞ্জ-২: ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন অধ্যাপক এভিএম ফজলুল করিম (জামায়াতে ইসলামী) ও মো. আমিনুল ইসলাম (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)।
মুন্সীগঞ্জ-৩: হাজি আব্বাস কাজী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) দলীয় সিদ্ধান্তে প্রত্যাহার করেছেন।

সর্বাধিক পঠিত

‘তেলের দাম ৭০০ টাকা হতো’—ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড নিয়ে যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন: নরসিংদী, নওগাঁ, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হিড়িক

আপডেট: ০৮:২৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় নাটকীয়তা ও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে অনেক প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর মধ্যে নরসিংদীতে নিজ দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে এক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে না পারার ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি বিভিন্ন আসনে জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে অনেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।
নরসিংদীতে নাটকীয়তা ও দুই প্রার্থীর প্রত্যাহার
নরসিংদীতে এক বিচিত্র পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার একটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও সেক্রেটারি মো. আমজাদ হোসাইনকে তার নিজ বাসায় আটকে রাখেন দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা। এর ফলে তিনি শেষ সময়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে ব্যর্থ হন।
অন্যদিকে, জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে দুজন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তারা হলেন:
* নরসিংদী-২ (পলাশ): মো. ফারুক ভূঁইয়া (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)।
* নরসিংদী-৩ (শিবপুর): জগলুল হায়দার আফ্রিক (গণফোরাম)।
নওগাঁর ছয় আসনে চারজনের প্রত্যাহার
নওগাঁর ছয়টি সংসদীয় আসনে চারজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে বর্তমানে জেলায় চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। প্রত্যাহারকারীরা হলেন:
* নওগাঁ-২: দেলোয়ার হোসেন (ইসলামী আন্দোলন), আব্দুর রহমান (খেলাফতে মজলিস) এবং হুমায়ুন কবির চৌধুরী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)।
* নওগাঁ-৫: কাজী আতিকুর রহমান (এবি পার্টি)।
দিনাজপুরে পাঁচ প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো
দিনাজপুরের ছয়টি আসনে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় এখন নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকছেন ৪০ জন প্রার্থী।
* দিনাজপুর-২: সুধীর চন্দ্র শীল (জাতীয় পার্টি)।
* দিনাজপুর-৩: রেজাউল করিম (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)।
* দিনাজপুর-৫: ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. আব্দুল আহাদকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন আনোয়ার হোসেন (জামায়াত ইসলামী)। এছাড়া একই আসনে প্রত্যাহার করেছেন আব্দুল কাদের চৌধুরী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)।

শরীয়তপুরে দুই প্রার্থীর প্রত্যাহার
শরীয়তপুরের তিনটি আসনে মোট ২৩ জন বৈধ প্রার্থীর মধ্যে দুজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ২১ জন। প্রত্যাহারকারীরা হলেন:
শরীয়তপুর-১: মো. মোশারফ হোসেন (জামায়াতে ইসলামী)।
শরীয়তপুর-২: ফারহানা কাদের রহমান (স্বতন্ত্র)।
ঝালকাঠিতে মিতু ও ইরানসহ ৪ জনের প্রত্যাহার
ঝালকাঠিতে দুটি আসনে মোট চারজন প্রার্থী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাদের প্রত্যাহারের ফরম জমা দিয়েছেন।
ঝালকাঠি-১: ডা. মাহমুদা মিতু (এনসিপি), গোলাম আজম সৈকত (বিএনপির বিদ্রোহী/স্বতন্ত্র) এবং মোস্তাফিজুর রহমান ইরান (চেয়ারম্যান, লেবার পার্টি)।
ঝালকাঠি-২: শেখ জামাল (এবি পার্টি)।
মুন্সীগঞ্জে মীর শরফত আলী সপুসহ ৪ জনের প্রত্যাহার
মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসনে বর্তমানে ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শেষ দিনে চারজন প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জ-১: মীর শরফত আলী সপু (বিএনপির বিদ্রোহী ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক) ব্যক্তিগত কারণে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
মুন্সীগঞ্জ-২: ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন অধ্যাপক এভিএম ফজলুল করিম (জামায়াতে ইসলামী) ও মো. আমিনুল ইসলাম (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)।
মুন্সীগঞ্জ-৩: হাজি আব্বাস কাজী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) দলীয় সিদ্ধান্তে প্রত্যাহার করেছেন।