যশোরের চৌগাছায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক মুদি দোকানিকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার পর বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে পলাশ (৩৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত পলাশ যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের মেলোর ছেলে। অন্যদিকে, গুরুতর আহত মুদি দোকানি রফিকুল ইসলাম (৫০) একই গ্রামের তবজেল মল্লিকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ও পলাশের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে রফিকুল ইসলাম বাইসাইকেলে করে বাড়ি থেকে নিজের দোকানে যাচ্ছিলেন। তিনি চৌগাছা থানাধীন শলুয়া কলেজের সামনে পৌঁছালে পলাশ তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় পলাশ ধারালো হাসুয়া দিয়ে রফিকুল ইসলামের মাথা ও মুখমণ্ডলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
রফিকুল ইসলাম রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা এগিয়ে আসে। এসময় ঘাতক পলাশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বিচিত্র মল্লিক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক
মুদি দোকানি রফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রফিকুলের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তরের (রেফার্ড) পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করীম জানান, “জমি সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।”





















