সাভারের পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক রহস্যময় মৃত্যুপুরীর পর্দা উন্মোচন করেছে পুলিশ। ভবঘুরের ছদ্মবেশে থাকা মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট (৪০) নামের এক দুর্ধর্ষ ‘সিরিয়াল কিলার’কে গ্রেপ্তার করেছে সাভার থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, সম্রাট মানসিক রোগীর ভান করলেও অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় একে একে নারী ও শিশুসহ ছয়জনকে হত্যা করেছেন।
গত শনিবার রাতে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবন থেকে এক কিশোরীসহ দুইজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সাভার থানার সামনে থেকে সম্রাটকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একে একে ছয়টি খুনের রোমহর্ষক বর্ণনা দেন। এই ঘটনায় সাভার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত ইমতিয়াজ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
খুনের পৈশাচিক তালিকা
সোমবার দুপুরে সাভার থানা চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম খুনের ভয়াবহ বিবরণ তুলে ধরেন। সম্রাটের
* ৪ জুলাই ২০২৫: সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে প্রথম হত্যা।
* ২৯ আগস্ট ২০২৫: পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে এক যুবককে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলা।
* ১১ অক্টোবর ২০২৫: একই ভবনে এক নারীকে হত্যা।
* ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫: আবারও ওই ভবনের ভেতরে আরও এক যুবককে হত্যা।
* সর্বশেষ গত শনিবার: এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর প্রমাণ লোপাটে
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম জানান, “সম্রাট পাগলের মতো আচরণ করলেও তিনি আসলে একজন ‘সাইকো টাইপ’ খুনি। তিনি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দিতেন। উদ্ধার হওয়া ৫টি লাশের মধ্যে মাত্র একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, বাকিরা ভবঘুরে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন জানান, সম্রাট গত রবিবার রাতেও এক ভবঘুরে নারীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু তার আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়েন।
পুলিশ সোমবার সম্রাটকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছে। এই সিরিয়াল কিলারের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এবং এর পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।





















