০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা বিভাগ করবে বিএনপি: তারেক রহমান

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:২৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৬৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: একাত্তরের স্বাধীনতা অর্জন আর চব্বিশের স্বাধীনতা রক্ষা—উভয়কেই সমান্তরাল গুরুত্ব দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, জনগণের সমর্থনে বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও শহীদ পরিবারের কল্যাণে একটি পৃথক বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট খোলা হবে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, একাত্তরের শহীদ ও আহতদের কল্যাণে বিএনপিই ‘মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন করেছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তারাও একেকজন মুক্তিযোদ্ধা।
* মূল পরিকল্পনা: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনেই একটি নতুন ডিপার্টমেন্ট তৈরি করা হবে, যার কাজ হবে জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও শহীদ পরিবারের দেখভাল করা।
* যুক্তি: তিনি উল্লেখ করেন, “৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, আর ২০২৪ সালে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছে। তাই জুলাই যোদ্ধারাও রাষ্ট্রীয় সম্মানের দাবিদার।”

জুলাই আন্দোলনের ভয়াবহতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম ও খুনের শিকার হয়েছে। শুধু জুলাই অভ্যুত্থানেই অন্তত ১৪শ মানুষ শহীদ এবং ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তিনি বলেন:
> “যেভাবে ১৫শ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিকে স্রেফ একটি ‘গণহত্যা’ বলা যায়। ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, অনেকেই পঙ্গু হয়েছেন। এই ত্যাগ কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, বরং এটি ছিল অধিকারহারা মানুষের গণআন্দোলন।”

তারেক রহমান তার বক্তব্যে আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরামসহ অসংখ্য শহীদের নাম স্মরণ করেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন:
২০২৪ সালের আন্দোলনকে যারা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই হবে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সার্থকতা।
আগামী দিনে নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ব্যর্থ হলে এই শোকগাথা চলতেই থাকবে। তাই শোককে বিজয়ে রূপান্তর করতে হবে।
বিকেলের অধিবেশন ও উপস্থিতি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সভায় আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তারেক রহমান তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, দায়িত্বশীল দল হিসেবে বিএনপি এই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে তাদের সকল প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে।

সর্বাধিক পঠিত

‘তেলের দাম ৭০০ টাকা হতো’—ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড নিয়ে যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা বিভাগ করবে বিএনপি: তারেক রহমান

আপডেট: ০৩:২৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: একাত্তরের স্বাধীনতা অর্জন আর চব্বিশের স্বাধীনতা রক্ষা—উভয়কেই সমান্তরাল গুরুত্ব দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, জনগণের সমর্থনে বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও শহীদ পরিবারের কল্যাণে একটি পৃথক বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট খোলা হবে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, একাত্তরের শহীদ ও আহতদের কল্যাণে বিএনপিই ‘মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন করেছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তারাও একেকজন মুক্তিযোদ্ধা।
* মূল পরিকল্পনা: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনেই একটি নতুন ডিপার্টমেন্ট তৈরি করা হবে, যার কাজ হবে জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও শহীদ পরিবারের দেখভাল করা।
* যুক্তি: তিনি উল্লেখ করেন, “৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, আর ২০২৪ সালে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছে। তাই জুলাই যোদ্ধারাও রাষ্ট্রীয় সম্মানের দাবিদার।”

জুলাই আন্দোলনের ভয়াবহতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম ও খুনের শিকার হয়েছে। শুধু জুলাই অভ্যুত্থানেই অন্তত ১৪শ মানুষ শহীদ এবং ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তিনি বলেন:
> “যেভাবে ১৫শ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিকে স্রেফ একটি ‘গণহত্যা’ বলা যায়। ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, অনেকেই পঙ্গু হয়েছেন। এই ত্যাগ কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, বরং এটি ছিল অধিকারহারা মানুষের গণআন্দোলন।”

তারেক রহমান তার বক্তব্যে আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরামসহ অসংখ্য শহীদের নাম স্মরণ করেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন:
২০২৪ সালের আন্দোলনকে যারা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই হবে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সার্থকতা।
আগামী দিনে নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ব্যর্থ হলে এই শোকগাথা চলতেই থাকবে। তাই শোককে বিজয়ে রূপান্তর করতে হবে।
বিকেলের অধিবেশন ও উপস্থিতি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সভায় আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তারেক রহমান তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, দায়িত্বশীল দল হিসেবে বিএনপি এই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে তাদের সকল প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে।