দেশে আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পাওয়া গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা অন্তত ২৩৮ জন পেশাদার ‘শুটার’কে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এক বছরের দীর্ঘ তথ্যানুসন্ধান ও গোয়েন্দা পর্যালোচনার পর এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিহ্নিত এসব অপরাধীর অধিকাংশই বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, চিহ্নিত এই ২৩৮ জন শুটারের বড় একটি অংশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অবস্থান করছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, খুলনা, শরীয়তপুর ও সিলেট (বিশেষ করে জকিগঞ্জ) অন্যতম। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার-প্রচারণায় এরা যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য প্রত্যেককে কঠোর নজরদারিতে রাখতে স্থানীয় পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত এক বছরে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু বর্বরোচিত ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে:
* খুলনা (খুনের জনপদ): গত এক বছরে খুলনা মহানগর ও জেলায় ৮৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আদালত চত্বরে জোড়া খুন ও সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলন হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
* কুমিল্লা: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নাঙ্গলকোটে দুজনকে গুলি ও রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে।
* ঢাকা: পুরানা পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি এবং জুরাইনে সিএনজিচালক পাপ্পু শেখকে গুলিতে হত্যা করা হয়েছে।
* নোয়াখালী: হাতিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক দিনেই নিহত হয়েছেন পাঁচজন।
* চট্টগ্রাম: ফটিকছড়ি ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় নির্বাচনী জনসংযোগ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে:
১. মাদক সিন্ডিকেট: মাদকের টাকার ভাগাভাগি ও রুট নিয়ন্ত্রণ।
২. আধিপত্য বিস্তার: এলাকায় রাজনৈতিক বা সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।
৩. অন্যান্য: পারিবারিক কলহ, জমি ও ব্যবসায়িক বিরোধ এবং পরকীয়া।
এ বিষয়ে পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম ও অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, চিহ্নিত শুটারদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দমনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।





















