০২:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৌশলে ভোটের মাঠে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগেই নীরব গণসংযোগ, আচরণবিধির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:১৮:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫৮

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হতে এখনো কয়েক দিন বাকি থাকলেও মাঠে-ঘাটে ও সামাজিক পরিসরে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে নীরব ‘ভোটযুদ্ধ’। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী ২১ জানুয়ারির আগে কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরাসরি ভোট না চাইলেও সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের আড়ালে কৌশলে গণসংযোগ চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।

পাড়া-মহল্লার দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি ও ধর্মীয় স্থাপনায় উপস্থিত হয়ে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন প্রার্থীরা। কোথাও দোয়া মাহফিল, কোথাও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা বলে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা, ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে ভোট প্রত্যাশা জানানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের শঙ্কা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কৌশলী প্রচারণা নির্বাচনি আচরণবিধির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এতে সুষ্ঠু ও সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন,
“নিয়ম থাকলেও প্রার্থীরা ভিন্ন কৌশলে ভোট চাইছেন। প্রার্থী সৎ না হলে আচরণবিধি রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ে।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহানগরীসহ বৃহত্তর ঢাকার ২০টি আসনের অনেক প্রার্থী ঢাকায় অবস্থান করলেও ঢাকার বাইরের অধিকাংশ প্রার্থী সরাসরি মাঠে রয়েছেন। ভোরে ফজরের নামাজ থেকে শুরু করে রাতে এশার নামাজ পর্যন্ত মসজিদে উপস্থিত থেকে মুসল্লিদের সঙ্গে কৌশলে যোগাযোগ করছেন তারা। সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও লিফলেট বিতরণ ও ছোট স্টিকার লাগানোর ঘটনাও চোখে পড়ছে।

হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী জি কে গউছ বলেন,
“আমরা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনেই মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছি। সরাসরি ভোট চাওয়া হচ্ছে না।”
ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন,
“২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করব। এখন শুধু সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করছি।”
মাগুরা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক এম বি বাকের জানান,
“দাঁড়িপাল্লা স্লোগান ছাড়া গণসংযোগ ও দোয়া চাওয়ার কাজ চলছে।”
ঝালকাঠি-১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী ডা. মাহমুদা মিতু বলেন,
“ইসির আচরণবিধি শতভাগ মেনে জনসচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছি।”

এদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কয়েকজন প্রার্থীকে শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন। ঢাকা-১৩ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মামুনুল হককে লিফলেট বিতরণের অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়া চাঁদপুর-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির দুই প্রার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার কারণে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

‘তেলের দাম ৭০০ টাকা হতো’—ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড নিয়ে যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

কৌশলে ভোটের মাঠে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগেই নীরব গণসংযোগ, আচরণবিধির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট: ০৮:১৮:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হতে এখনো কয়েক দিন বাকি থাকলেও মাঠে-ঘাটে ও সামাজিক পরিসরে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে নীরব ‘ভোটযুদ্ধ’। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী ২১ জানুয়ারির আগে কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরাসরি ভোট না চাইলেও সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের আড়ালে কৌশলে গণসংযোগ চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।

পাড়া-মহল্লার দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি ও ধর্মীয় স্থাপনায় উপস্থিত হয়ে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন প্রার্থীরা। কোথাও দোয়া মাহফিল, কোথাও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা বলে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা, ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে ভোট প্রত্যাশা জানানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের শঙ্কা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কৌশলী প্রচারণা নির্বাচনি আচরণবিধির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এতে সুষ্ঠু ও সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন,
“নিয়ম থাকলেও প্রার্থীরা ভিন্ন কৌশলে ভোট চাইছেন। প্রার্থী সৎ না হলে আচরণবিধি রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ে।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহানগরীসহ বৃহত্তর ঢাকার ২০টি আসনের অনেক প্রার্থী ঢাকায় অবস্থান করলেও ঢাকার বাইরের অধিকাংশ প্রার্থী সরাসরি মাঠে রয়েছেন। ভোরে ফজরের নামাজ থেকে শুরু করে রাতে এশার নামাজ পর্যন্ত মসজিদে উপস্থিত থেকে মুসল্লিদের সঙ্গে কৌশলে যোগাযোগ করছেন তারা। সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও লিফলেট বিতরণ ও ছোট স্টিকার লাগানোর ঘটনাও চোখে পড়ছে।

হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী জি কে গউছ বলেন,
“আমরা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনেই মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছি। সরাসরি ভোট চাওয়া হচ্ছে না।”
ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন,
“২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করব। এখন শুধু সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করছি।”
মাগুরা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক এম বি বাকের জানান,
“দাঁড়িপাল্লা স্লোগান ছাড়া গণসংযোগ ও দোয়া চাওয়ার কাজ চলছে।”
ঝালকাঠি-১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী ডা. মাহমুদা মিতু বলেন,
“ইসির আচরণবিধি শতভাগ মেনে জনসচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছি।”

এদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কয়েকজন প্রার্থীকে শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন। ঢাকা-১৩ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মামুনুল হককে লিফলেট বিতরণের অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়া চাঁদপুর-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির দুই প্রার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার কারণে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।