কুড়িগ্রামের সেই আলোচিত ফেলানী খাতুন, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি যাকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রেখেছিল। সেই মর্মস্পর্শী ঘটনার ১৪ বছর পর ফেলানীর ছোট ভাই মো. আরফান হোসেন (২১) এখন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী। আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) যোগ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত ‘বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ’-এ ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তরুণ সৈনিকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ রক্ষার শপথ নেন আরফান। গত চার মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে তিনি আজ বিজিবির একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন।
২০২৪ সালে স্থানীয় ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করেন আরফান। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৫ বিজিবি আয়োজিত নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি মেধার ভিত্তিতে উত্তীর্ণ হন। লালমনিরহাটে বিজিবি সদর দপ্তরে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমামের কাছ থেকে নিয়োগপত্র নেওয়ার সময় আরফানের বাবা মো. নুরুল ইসলামও আবেগাপ্লুত হয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
‘আমার বোনের মতো আর কেউ যেন প্রাণ না হারায়’
কুচকাওয়াজ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি নবীন এই সৈনিক। তিনি আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন:
> “সীমান্তে আমার বোনকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। আমি আজ সেই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সৈনিক। আমি চাইব না, আমার বোনের মতো আর কোনো বাবা-মা তাদের সন্তান হারাক। দেশের সীমান্ত রক্ষায় জীবন দিতে হলেও আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন কোনো বোন বা মা-বাবাকে এমন নির্মম শোক সইতে না হয়।”
আরফান আরও স্মরণ করেন, ২০১১ সালে যখন তার বোনকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৬-৭ বছর। সেই শৈশব থেকেই তার বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল আরফান যেন দেশের সেবায় নিয়োজিত হতে পারে। সেই লক্ষ্য ও জেদ নিয়েই নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি।
পরিবারের আশা ও আগামীর পথ
দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে ফেলানীর পরিবার ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করছে। ফেলানী হত্যার সেই বিচার আজও ঝুলে থাকলেও, ছোট ভাই আরফানের এই সাফল্য পরিবারটির জন্য দীর্ঘদিনের চাপা বেদনার মাঝে এক টুকরো আশার আলো নিয়ে এসেছে। এলাকাবাসী ও পরিবারের বিশ্বাস, আরফান তার বোনের প্রতি হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ হিসেবেই নিজের দেশপ্রেম দিয়ে সীমান্ত সুরক্ষিত রাখবেন।





















