০১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আটক যশোরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা: মুক্তির দাবিতে রাজপথে শিক্ষকরা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৫০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৬৬

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আটক যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে নির্দোষ দাবি করে রাজপথে নেমেছেন জেলার প্রাথমিক শিক্ষকরা। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং তদন্ত টিমের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের মধ্য দিয়ে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান তারা।
উদ্ভূত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রোববার ঢাকা থেকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম যশোরে পৌঁছায়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও যুগ্ম সচিব মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই টিমে আরও রয়েছেন উপ-পরিচালক তাপস অধিকারী এবং খুলনার সহকারী পরিচালক ফজলে রহমান। তদন্ত দলটি যশোর সার্কিট হাউজে অবস্থান করে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন। একই সঙ্গে তারা মামলার বাদী নূর নবীর সাথেও আলোচনা করেন।
সকালে জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সার্কিট হাউজে উপস্থিত হয়ে তদন্ত টিমের কাছে আশরাফুল আলমকে নির্দোষ দাবি করে লিখিত তথ্য ও বক্তব্য তুলে দেন। এরপর দুপুরে যশোর প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা শত শত শিক্ষক অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন, যা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষক নেতা জাহাঙ্গীর আলম, শাহিনুর রহমান ও আব্দুল জব্বার অভিযোগ করেন,
“জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। নূর নবী নামের এক ব্যক্তির সাজানো ফাঁদে তাকে আটক করা হয়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও তার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
যশোর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম বলেন,
“শিক্ষকরা তাদের প্রিয় কর্মকর্তার মুক্তির দাবিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে নেমেছেন। যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন, আমরা আশা করছি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।”
এদিকে তদন্ত টিম সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন। তদন্তের ফলাফলের ওপরই আশরাফুল আলমের ভবিষ্যৎ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

‘তেলের দাম ৭০০ টাকা হতো’—ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড নিয়ে যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আটক যশোরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা: মুক্তির দাবিতে রাজপথে শিক্ষকরা

আপডেট: ০৪:৫০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আটক যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে নির্দোষ দাবি করে রাজপথে নেমেছেন জেলার প্রাথমিক শিক্ষকরা। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং তদন্ত টিমের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের মধ্য দিয়ে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান তারা।
উদ্ভূত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রোববার ঢাকা থেকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম যশোরে পৌঁছায়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও যুগ্ম সচিব মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই টিমে আরও রয়েছেন উপ-পরিচালক তাপস অধিকারী এবং খুলনার সহকারী পরিচালক ফজলে রহমান। তদন্ত দলটি যশোর সার্কিট হাউজে অবস্থান করে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন। একই সঙ্গে তারা মামলার বাদী নূর নবীর সাথেও আলোচনা করেন।
সকালে জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সার্কিট হাউজে উপস্থিত হয়ে তদন্ত টিমের কাছে আশরাফুল আলমকে নির্দোষ দাবি করে লিখিত তথ্য ও বক্তব্য তুলে দেন। এরপর দুপুরে যশোর প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা শত শত শিক্ষক অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন, যা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষক নেতা জাহাঙ্গীর আলম, শাহিনুর রহমান ও আব্দুল জব্বার অভিযোগ করেন,
“জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। নূর নবী নামের এক ব্যক্তির সাজানো ফাঁদে তাকে আটক করা হয়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও তার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
যশোর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম বলেন,
“শিক্ষকরা তাদের প্রিয় কর্মকর্তার মুক্তির দাবিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে নেমেছেন। যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন, আমরা আশা করছি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।”
এদিকে তদন্ত টিম সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন। তদন্তের ফলাফলের ওপরই আশরাফুল আলমের ভবিষ্যৎ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।