মাদারীপুরের রাজৈরে বিয়েবাড়িতে উচ্চস্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে রাজৈর পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাদশাহ মীরসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। আহত বাদশাহ মীরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজৈর পৌরসভার পশ্চিম রাজৈর গ্রামের শহিদ শেখের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান বাজানো হচ্ছিল। জুম্মার নামাজের সময় রাজৈর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর খান (৪৫) উচ্চস্বরে গান বাজাতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে শহিদ শেখের ভাই অলি শেখের (৪০) সাথে তার কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
প্রাথমিক তর্কের রেশ ধরে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রাজৈর পৌরসভার বেপারীপাড়া মোড় ও পশ্চিম রাজৈর এলাকায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন জাহাঙ্গীর খানের একটি জ্বালানি কাঠের দোকান এবং দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে রাজৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মিমাংসার চেষ্টাকালে হামলা
সংঘর্ষ থামার পর রাতে বিষয়টি মিমাংসার জন্য জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে যান রাজৈর পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাদশাহ মীর। সেখানে পুনরায় উত্তজনা সৃষ্টি হলে বাদশাহ মীর গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের পরামর্শ দেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। মাদারীপুরের রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।”





















