০২:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় এনসিপিতে ভাঙন, ১৫ কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:২২:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫৪

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী আসন সমঝোতায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ সিদ্ধান্তের পর দলটি থেকে একের পর এক পদত্যাগের ঘটনা ঘটছে। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও দলীয় নেতৃত্ব বলছে, কারও পদত্যাগপত্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি এবং পদত্যাগকারীদের ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

এনসিপির নেতাদের দাবি, জামায়াতের সঙ্গে এই সম্পর্ক কোনো আদর্শিক জোট নয়; এটি কেবল নির্বাচনী সমঝোতা। গাজীপুর-২ আসনের এনসিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান বলেন,
‘জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির এটি শুধু নির্বাচনী বোঝাপড়া। প্রত্যেকে নিজ নিজ রাজনৈতিক লাইন অনুসরণ করবে। এটি ভোটের কৌশল মাত্র।’

দলটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহও একই সুরে বলেন,
‘নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। নির্বাচনের পরে এই জোট থাকবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।’
তবে দলের ভেতরের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্তকে এনসিপির মূল রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন। পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, ‘নতুন বন্দোবস্ত’ ও ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’-এর রাজনীতির কথা বললেও বাস্তবে এনসিপি পুরোনো ব্যবস্থার অংশীজনদের সঙ্গে আপস করেছে।
জামায়াতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট ঘোষণার আলোচনা শুরু হওয়ার পর প্রথম পদত্যাগ করেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব, চিকিৎসক ও সমাজকর্মী ডা. তাসনিম জারা। এরপর ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে দল ছাড়েন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক। তিনি পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দেন।
পদত্যাগ করা অন্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—
যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ ও তাজনূভা জাবীন, মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন, আইসিটি সেলের প্রধান ফরহাদ আলম ভূঁইয়া, যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেল, যুগ্ম সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক আজাদ খান ভাসানী, দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক ওয়াহিদুজ্জামান, দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী, সৈয়দা নীলিমা দোলা, আসিফ মোস্তফা জামাল, মীর হাবীব আল মানজুর, মারজুক আহমেদ ও আল আমিন টুটুল।

লএ ছাড়া অন্তত পাঁচজন নারী নেত্রী এই জোটের বিরুদ্ধে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন এনসিপির মনোনীত প্রার্থী হয়েও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
জোটের শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি, তবে দলীয় কার্যক্রমে তাঁকে নিষ্ক্রিয় দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়,
‘জামায়াতে ইসলামী নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়। বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচন—এই তিনটি প্রশ্নে অভিন্ন অবস্থান ছাড়া কোনো রাজনৈতিক মিত্রতা সম্ভব নয়।’
সাবেক মিডিয়া সেল সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন বলেন, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যের পরিপন্থী।
তবে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টিকে সাময়িক সংকট হিসেবে দেখছে। যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন,
‘অনেকেই ভুল বোঝাবুঝির কারণে পদত্যাগ করেছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা আশা করছি, তারা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন।’
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, নির্বাহী পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতেই জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন,
‘পদত্যাগের ঘটনায় আমরা আহত। তবে এখনো কোনো পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি। আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’

সর্বাধিক পঠিত

‘তেলের দাম ৭০০ টাকা হতো’—ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড নিয়ে যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় এনসিপিতে ভাঙন, ১৫ কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ

আপডেট: ০৯:২২:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী আসন সমঝোতায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ সিদ্ধান্তের পর দলটি থেকে একের পর এক পদত্যাগের ঘটনা ঘটছে। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও দলীয় নেতৃত্ব বলছে, কারও পদত্যাগপত্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি এবং পদত্যাগকারীদের ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

এনসিপির নেতাদের দাবি, জামায়াতের সঙ্গে এই সম্পর্ক কোনো আদর্শিক জোট নয়; এটি কেবল নির্বাচনী সমঝোতা। গাজীপুর-২ আসনের এনসিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান বলেন,
‘জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির এটি শুধু নির্বাচনী বোঝাপড়া। প্রত্যেকে নিজ নিজ রাজনৈতিক লাইন অনুসরণ করবে। এটি ভোটের কৌশল মাত্র।’

দলটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহও একই সুরে বলেন,
‘নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। নির্বাচনের পরে এই জোট থাকবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।’
তবে দলের ভেতরের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্তকে এনসিপির মূল রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন। পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, ‘নতুন বন্দোবস্ত’ ও ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’-এর রাজনীতির কথা বললেও বাস্তবে এনসিপি পুরোনো ব্যবস্থার অংশীজনদের সঙ্গে আপস করেছে।
জামায়াতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট ঘোষণার আলোচনা শুরু হওয়ার পর প্রথম পদত্যাগ করেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব, চিকিৎসক ও সমাজকর্মী ডা. তাসনিম জারা। এরপর ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে দল ছাড়েন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক। তিনি পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দেন।
পদত্যাগ করা অন্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—
যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ ও তাজনূভা জাবীন, মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন, আইসিটি সেলের প্রধান ফরহাদ আলম ভূঁইয়া, যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেল, যুগ্ম সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক আজাদ খান ভাসানী, দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক ওয়াহিদুজ্জামান, দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী, সৈয়দা নীলিমা দোলা, আসিফ মোস্তফা জামাল, মীর হাবীব আল মানজুর, মারজুক আহমেদ ও আল আমিন টুটুল।

লএ ছাড়া অন্তত পাঁচজন নারী নেত্রী এই জোটের বিরুদ্ধে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন এনসিপির মনোনীত প্রার্থী হয়েও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
জোটের শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি, তবে দলীয় কার্যক্রমে তাঁকে নিষ্ক্রিয় দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়,
‘জামায়াতে ইসলামী নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়। বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচন—এই তিনটি প্রশ্নে অভিন্ন অবস্থান ছাড়া কোনো রাজনৈতিক মিত্রতা সম্ভব নয়।’
সাবেক মিডিয়া সেল সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন বলেন, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যের পরিপন্থী।
তবে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টিকে সাময়িক সংকট হিসেবে দেখছে। যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন,
‘অনেকেই ভুল বোঝাবুঝির কারণে পদত্যাগ করেছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা আশা করছি, তারা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন।’
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, নির্বাহী পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতেই জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন,
‘পদত্যাগের ঘটনায় আমরা আহত। তবে এখনো কোনো পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি। আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’