০১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুছাব্বির হত্যা: নেপথ্যে ভাড়াটে শুটার ও ত্রিমুখী দ্বন্দ্ব, সিসিটিভি ফুটেজে খুনিদের শনাক্ত

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৩২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫৭

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ভাড়াটে শুটার ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুই ঘাতকের অবয়ব আংশিক শনাক্ত করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার—এই তিনটি মূল কারণ সামনে রেখে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাব।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে পশ্চিম তেজতুরি বাজারের স্টার কাবাব হোটেলে একটি বৈঠক শেষে সহকর্মী আবু সুফিয়ান মাসুদকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন মুছাব্বির। রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটের দিকে সিটি হোন্ডা সার্ভিস পয়েন্টের সামনের গলিতে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। একটি গুলি মুছাব্বিরের পেটে এবং অন্যটি ডান হাতের কনুইয়ে বিদ্ধ হয়। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর সঙ্গী মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থল থেকে ৭.৬৫ বোর পিস্তলের তিনটি খালি খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ।:
তদন্তকারীদের ধারণা, এই মিশনে ৫ থেকে ৬ জন অংশ নিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গুলি করার পর দুই শুটার কোমরে পিস্তল গুঁজে শান্ত ভঙ্গিতে কারওয়ান বাজারের দিকে হেঁটে পালিয়ে যায়। পেশাদার এই খুনিরা নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।?
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান, অপরাধীদের গ্রেফতারে একাধিক সংস্থা কাজ করছে। নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে মুছাব্বিরকে আগে থেকেই হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুছাব্বির বিএনপি নেতা সাইফুল আলম নীরবের অনুসারী ছিলেন এবং আসন্ন সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কারওয়ান বাজার এলাকার চাঁদাবাজি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নয়াপল্টনে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। খুনিদের গ্রেফতারে দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম পার হওয়ায় এবং বিচারের দাবিতে আগামী শনিবার (১০ জানুয়ারি) সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল।

সর্বাধিক পঠিত

‘তেলের দাম ৭০০ টাকা হতো’—ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড নিয়ে যা বললেন যুবদল নেতা নয়ন

মুছাব্বির হত্যা: নেপথ্যে ভাড়াটে শুটার ও ত্রিমুখী দ্বন্দ্ব, সিসিটিভি ফুটেজে খুনিদের শনাক্ত

আপডেট: ০৩:৩২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ভাড়াটে শুটার ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুই ঘাতকের অবয়ব আংশিক শনাক্ত করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার—এই তিনটি মূল কারণ সামনে রেখে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাব।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে পশ্চিম তেজতুরি বাজারের স্টার কাবাব হোটেলে একটি বৈঠক শেষে সহকর্মী আবু সুফিয়ান মাসুদকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন মুছাব্বির। রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটের দিকে সিটি হোন্ডা সার্ভিস পয়েন্টের সামনের গলিতে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। একটি গুলি মুছাব্বিরের পেটে এবং অন্যটি ডান হাতের কনুইয়ে বিদ্ধ হয়। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর সঙ্গী মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থল থেকে ৭.৬৫ বোর পিস্তলের তিনটি খালি খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ।:
তদন্তকারীদের ধারণা, এই মিশনে ৫ থেকে ৬ জন অংশ নিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গুলি করার পর দুই শুটার কোমরে পিস্তল গুঁজে শান্ত ভঙ্গিতে কারওয়ান বাজারের দিকে হেঁটে পালিয়ে যায়। পেশাদার এই খুনিরা নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।?
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান, অপরাধীদের গ্রেফতারে একাধিক সংস্থা কাজ করছে। নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে মুছাব্বিরকে আগে থেকেই হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুছাব্বির বিএনপি নেতা সাইফুল আলম নীরবের অনুসারী ছিলেন এবং আসন্ন সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কারওয়ান বাজার এলাকার চাঁদাবাজি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নয়াপল্টনে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। খুনিদের গ্রেফতারে দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম পার হওয়ায় এবং বিচারের দাবিতে আগামী শনিবার (১০ জানুয়ারি) সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল।