আন্তর্জাতিক সীমানা আইন তোয়াক্কা না করে লালমনিরহাট সীমান্তে জিরো লাইনের ভেতর পাকা সড়ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর বিরুদ্ধে। গত কয়েক দিন ধরে রাতের আঁধারে এই নির্মাণকাজ চললেও অবশেষে বিজিবি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর তীব্র বাধার মুখে তা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটের বালারহাট সীমান্ত এলাকায় জিরো লাইন থেকে কোথাও ৫০-৬০ গজ, কোথাও ৭০ গজ আবার কোথাও ১০০ থেকে ১২০ গজের মধ্যে একটি পুরাতন সড়কের সংস্কার ও নতুন করে পাকাকরণের কাজ শুরু করে বিএসএফ। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সীমান্ত রেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো দেশেরই স্থায়ী বা পাকা স্থাপনা নির্মাণের নিয়ম নেই। বিএসএফ এই নিয়ম লঙ্ঘন করে গত ৩-৪ দিন ধরে এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের কাজ চালিয়ে আসছিল।
মজিবর রহমান ও উমর আলী মন্টুসহ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, বিএসএফ দিনের চেয়ে রাতের আঁধারে কাজ করতেই বেশি আগ্রহী ছিল। বালারহাট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা শুরুতে বাধা দিলেও বিএসএফ তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যায়। পরে আজ স্থানীয় গ্রামবাসী বিজিবির সাথে একাত্ম হয়ে সরাসরি নির্মাণকাজে বাধা প্রদান করলে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
বিজিবি ও বিএসএফ-এর পতাকা বৈঠক
উত্তেজনা নিরসনে বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে ইতোমধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন বালারহাট ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার আবু তাহের জানান, বৈঠক চলাকালীন উভয় দেশের অধিনায়ক পর্যায়ে ফোনালাপ হয়েছে।
বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ:
আগামী ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএসএফ সড়কের সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখবে।
১৩ জানুয়ারি পুনরায় পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের মধ্যে এখনো আতঙ্ক কাজ করছে। তারা আশঙ্কা করছেন, দিনের বেলা কাজ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও বিএসএফ আবারও রাতের আঁধারে কাজ শুরু করতে পারে। সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে বিজিবি কড়া নজরদারি বজায় রেখেছে।





















